kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

তরুণ চিকিৎসকের গল্প

ওরা তিনজন

বেসরকারিতে পড়েও অন্যদের মতো চিকিৎসা দিচ্ছেন তাঁরা। বিভিন্ন হাসপাতালে কাজ করা তিন তরুণ চিকিৎসকের গল্প শোনাচ্ছেন তন্ময় রায়

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ওরা তিনজন

বাঁ থেকে ডা. নাজমী কবির, সৈয়দা সামিনা হোসেন ও ডা. মুসাব্বিরুল ইসলাম। ছবি : লেখক

ডা. নাজমী কবির আছেন পিজি হাসপাতালে। সেখানে তিনি ডি অর্থোডকস কোর্স করছেন।

শুরু থেকেই তাঁর অর্থোপেডিকস সার্জারির দিকে ঝোঁক ছিল। কারণ তিনি জেনেছেন, আমাদের দেশে এ বিষয়ে নারী বিশেষজ্ঞের সংখ্যা খুব কম। তাঁর ইন্টার্নশিপ শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। এখানেই পড়েছেন তিনি। তাঁদের হাসপাতালে অনেক রোগী আসতেন। তাঁদের সঙ্গে রোগসংক্রান্ত বিষয়ে খোলামেলা আলাপ করতেন। এই অভ্যাসটি এখনো আছে তাঁর। যেখানেই গেছেন, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে রোগীদের সমস্যাগুলো জেনেছেন। গর্ভবতী নারীদের কিভাবে সেলাই করতে হয়, সেটিও তাঁর এখানে শেখা। এমবিবিএস পাস করে তিনি তাঁর কলেজের হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন। সেখানে দুই বছর কাজ করেছেন। সেখানে একবার এক কিশোর রোগী এসেছিল। তার বাঁ পায়ে ক্ষত। তিনি ড্রেসিং করে তাকে ওষুধ দিলেন। সে চলে গেল। আবার কিছুদিন পর দুই পায়ে ক্ষত নিয়ে ফিরে এলো। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা দেখে বললেন, দুটি পা কেটে ফেলে দিতে হবে। ব্যাপারটি মেনে নিতে পারেননি তিনি। অনেক ভেবে তার চিকিৎসা শুরু করলেন। সে হাসপাতালে ভর্তি হলো। দুই মাস ধরে ড্রেসিং, ওষুধ চলল। একসময় সে সুস্থ হয়ে গেল। ব্যাপারটি অন্য ডাক্তারদের অবাক করেছিল। আর সেই কিশোর রোগীর টাকা ছিল না বলে তাকে বিনা পয়সায় চিকিৎসা দেওয়া হলো। ডাক্তাররা চাঁদা তুলে তার ওষুধ কিনে দিয়েছিলেন। এখনো সে মাঝেমধ্যে এসে ডাক্তার আপার সঙ্গে দেখা করে যায়। ডা. নাজমী কবিরের ইচ্ছা—ভবিষ্যতে উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার জন্য বিদেশে যাবেন। পরে ফিরে আসবেন আপন দেশে।

ডা. মুসাব্বিরুল ইসলাম পড়েছেন ইব্রাহিম মেডিক্যাল কলেজে (বারডেম)। ২০১১ সালের নভেম্বরে ইন্টার্নি শুরু করেন তিনি। নবিশ ডাক্তার বলে প্রথম প্রথম রোগীদের কাছ থেকে খুব কম সহযোগিতা পেতেন। ধীরে ধীরে শিখে নিয়েছেন, কিভাবে তাদের মন জয় করা যায়। পাশাপাশি তাদের চিকিৎসা করতে গিয়ে রোগের ধরন বুঝে তিনি অজানা বা কম জানা রোগ সম্পর্কে লেখাপড়া করেছেন। ইন্টার্ন শেষে এফসিপিএস ও এমএস করেছেন খুলনা মেডিক্যাল কলেজ ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। প্রাইভেট থেকে পড়ে এসেছেন বলে শুরুতে সলিমুল্লাহয় চিকিৎসকদের সহযোগিতা পেতেন না। একবার তাঁর কাছে মেয়েলি রোগ নিয়ে এক কিশোরী রোগী এলো। তারা নানা জায়গায় চিকিৎসা করেও কোনো সুফল পায়নি। অন্য ডাক্তাররাও তাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেননি। পরে তিনি তাকে ভর্তি করালেন। অপারেশনের পর সে ভালো হয়ে গেল। এখনো মাঝেমধ্যে সে ও তার মা-বাবা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেন। ডা. মুসাব্বির এখন ঢাকা মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

আরেকজন চিকিৎসক সৈয়দা সামিনা হোসেন আছেন আদ-দ্বীন হাসপাতালে। এখানে তিনি সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার। নিয়মিত রোগী দেখেন। তাঁর চাকরিজীবনের শুরু হয়েছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে। সেখানে ছয় মাস তিনি জরুরি বিভাগে চিকিৎসক হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তখন এমনও দিন গেছে, সারা দিন রোজা রাখার পর ইফতারের সময় পেতেন না। একবার আজান দিচ্ছে, এমন সময় এক রোগীর আত্মীয় হন্তদন্ত হয়ে এলো, আপা, আমার রোগীর অবস্থা খুব খারাপ। একটু আসেন। তিনি দৌড়ে গেলেন। পরে তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানলেন, তিনি ভালোই আছেন। সামান্য সমস্যা হয়েছিল। সেটির সামাধান দিলেন। তিনি বললেন, বিপদে রোগীর পাশে দাঁড়ানোর আনন্দের তুলনা হয় না। ’

 


মন্তব্য