kalerkantho


ছেলে কোলে ডাক্তারিতে

ডা. নাসিমুন নাহার   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ছেলে কোলে ডাক্তারিতে

মা-বাবা চাইতেন, মেয়ে তাঁদের ডাক্তার হোক। নাসিমুন নাহারেরও ইচ্ছা তা-ই। সে জন্যই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োলজিতে চান্স পেলেও পড়া হয়নি। ২০০২ সালে ময়মনসিংহের কমিউনিটি বেইজড মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন। লেখাপড়ার মাঝেই বিয়ে হয়ে গেল। একবার একটি বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়া হলো না। পরেরবার পাস করলেন। এর মধ্যেই এলো সন্তান। ছেলেকে নিয়েই লেখাপড়া করতে লাগলেন। ২০০৮ সালে এমবিবিএস পাস করেছেন তিনি। প্রথম চাকরিটি ছিল সূর্যের হাসি ক্লিনিকে।

তিনি ছিলেন মেডিক্যাল অফিসার। প্রথম চাকরিতে অনেক কিছু শিখেছেন তিনি—‘সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আউটডোরে কাজ করতাম। নানা ধরনের মানুষের নানা রোগের সমাধান করতে হতো। ’ বছরখানেক পর নারায়ণগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসপাতালে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে যোগ দেন। সেই সময়টার কথা বললেন এভাবে, ‘তখনো ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে যেতাম। ছয় শিফটে ডিউটির নিয়ম ছিল, কিন্তু আমি টানা ৭২ ঘণ্টা ডিউটি করতাম, যাতে একটানা কাজ করে পরে ছেলেকে সময় দিতে পারি। ’ একদিন দিনে রোগী দেখে রাতে ঘুমাতে গেলেন। চোখে ঘুম লেগে এসেছে মাত্র, হঠাৎ রাত ১২টায় ফোন এলো। নিচে নেমে দেখেন, অ্যাম্বুল্যান্সে খুব সিরিয়াস এক রোগী আনা হয়েছে। রাতভর তাঁকে চিকিৎসা করে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হলো। এই চাকরির পাশাপাশি পার্টটাইম মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে বিজিএমইতে কাজ করেছেন। ২০১২ সালে নর্থ সাউথ থেকে এমপিএইচ (মাস্টার্স অব পাবলিক হেলথ) ডিগ্রি নিয়েছেন। সে বছরই ফরিদপুর ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিক্যাল কলেজে লেকচারার পদে যোগ দেন। পরের বছর ‘অপরাজেয় বাংলা’য় মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে কাজ করেন। সে সময়টি কেমন কেটেছে? নাহার বললেন, “সপ্তাহে এক দিন যেতাম। এতিম শিশুদের সঙ্গে দেখা হতো। ওরা বলত, ‘ডাক্তার আপা’। একবার এক শিশুর জন্মদিনে কেক নিয়ে গিয়েছিলাম। খুশিতে ফেটে পড়ে ও বলেছিল, ‘আপা বড় হয়ে আমিও আপনার মতো ডাক্তার হব। ’ ” এখন তিনি সিলভার লাইন গার্মেন্টে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে আছেন।


মন্তব্য