kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চিকিৎসা পেশায় নারী

পাস করেছিল ৪টি মেয়ে

চিকিৎসা পেশায় নারীর পদচারণ এখন অনেক। তবে আজ থেকে ৬০-৭০ বছর আগেও এটি ছিল তাঁদের জন্য কঠিন পেশা। কখনো পরিবার, কখনো নিজের সংগ্রাম তাঁদের সহায় হয়েছে। সেই গল্পই বলছেন তিন নারী। লিখেছেন সাইফুল ইসলাম। ছবি তুলেছেন ইয়ামিন মজুমদার

জাতীয় অধ্যাপক ডা. শাহ্লা খাতুন   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



পাস করেছিল ৪টি মেয়ে

যে মেয়েটি কোনো দিন মা-বাবাকে ছেড়ে দূরে কোথাও থাকেননি, সেই তিনিই ডাক্তার হবেন বলে সিলেট ছেড়ে সুদূর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ১৯৫৬ সালে ভর্তি হলেন। তাঁদের সময়ে মেয়েরা মেডিক্যালে পড়বে, পুরুষ রোগী দেখবে—এটি ভাবাও যেত না।

তাঁদের ব্যাচে ১১২ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে মেয়ে ছিলেন মাত্র ১২ জন। এত মেয়ে একসঙ্গে পড়ছেন—সেটিই ছিল তখন বিস্ময়। তিনি থাকতেন বড় মামার ওয়ারীর বাসায়। সকাল ৭টায় বাঁধা রিকশায় চড়ে বসতেন। বিকেল ৪টায় সেই রিকশা গিয়ে তাঁকে নিয়ে আসত।

১৯৬১ সালে এমবিবিএস পাস করেছেন ডা. শাহ্লা খাতুন। তাঁদের ১১২ জনের মধ্যে প্রথমবার মাত্র ১৭ জন পাস করেছিলেন। তাঁদের চারজনই ছিলেন নারী! সেই সময় ইন্টার্নি বলে কোনো কিছু ছিল না। ফলে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগবিদ্যায় লেখাপড়া করা ডা. শাহ্লা খাতুন পাস করে সরাসরি ঢাকা মেডিক্যালের গাইনি বিভাগে যোগ দেন। এখানে তিনি মেডিক্যাল অফিসার থেকে শুরু করে সর্বশেষ পদ রেসিডেন্স সার্জন ছিলেন। এর মধ্যে নানা ধরনের ডিগ্রি নিয়েছেন। তখন থেকে গ্রামের নারীদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে চলেছেন ডা. শাহ্লা খাতুন। এ প্রসঙ্গে তিনি একটি ঘটনার কথা বললেন, ‘১৯৭০ সালে সাতক্ষীরায় ক্যাম্প করতে গিয়ে দেখি, আমার মাথার ওপর কাপড় টাঙানো আছে, কিন্তু বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে মাটিতে বসেই রোগী দেখতে শুরু করলাম। ’ তাঁরই উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় পিজি হাসপাতালে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগবিদ্যা বিভাগ চালু হয়েছে। ১৯৯৮ সালে তিনি এখানে এই বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে রাজশাহী মেডিক্যালেও একই বিভাগের প্রধান ছিলেন। তবে ২০০১ সালে অবসর নেওয়ার পরও কাজ তাঁকে ছাড়েনি। সে বছরই বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগ দেন।

২০১১ সালে ইতিহাসের দ্বিতীয় নারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁকে ‘জাতীয় অধ্যাপক’ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। তিনি ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি গ্রিন লাইফ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারপারসন।

 


মন্তব্য