kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রথম বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ

১৯৮৬ সালে প্রথম বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ। এটি পরিচালনা করছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট। লিখেছেন তন্ময় রায়

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



প্রথম বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ

অলাভজনক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেডিক্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিএমএসআরআই)। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী,

ম. মাহবুবুজ্জামান, অধ্যাপক আবু আহমেদ চৌধুরী, অধ্যাপক কে এ এ কমরুদ্দিন, অধ্যাপক শামসুল হক, অধ্যাপক এম আই চৌধুরী, অধ্যাপক সি এইচ কবীর. আব্দুল বারেক চৌধুরী ও সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

বিএমএসআরআইয়ের মাধ্যমেই ১৯৮৬ সালের ২৪ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ। এটিই দেশের প্রথম বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ। বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজে ক্লাস শুরু হয় ১৯৮৬ সালের ১ জুলাই। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন প্রফেসর মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়।   মেডিক্যাল কলেজটির কার্যক্রম শুরু হয় রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাড়ি ভাড়া নিয়ে। প্রথম বছর শিক্ষার্থী ছিল ৩৪ জন। শুরুর দিকে এখানে ক্লাস নিতেন দেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষকরা। কিছুটা আর্থিক ও জনবল সংকট ছিল। তার পরও কর্তৃপক্ষ সব সময় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে কাজ করে গেছে। সে সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নামমাত্র টাকা নেওয়া হতো। মেডিক্যাল কলেজটিতে বর্তমানে ৫৫০ জন শিক্ষার্থী ও ১৫৯ জন শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে পরিসরও।

বিএমএসআরআইয়ের কো-অনারারি সেক্রেটারি ডা. এ. এইচ. রেজওয়ানুল কবির বলেন, ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল হাসপাতালে প্রচুর রোগী আসে। ফলে আমাদের শিক্ষার্থীরা খুব ভালোভাবে ব্যবহারিক কাজ শিখতে পারছে। আমাদের এখানে কোনো পার্টটাইম শিক্ষক দ্বারা ক্লাস  নেওয়া হয় না। ’

কলেজের অধ্যক্ষ তৈমুর নেওয়াজ বলেন, ‘আমাদের এখান থেকে পড়ে অনেক শিক্ষার্থী দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছে। অনেকেই দেশের ও দেশের বাইরের হাসপাতাল, ক্লিনিক বা মেডিক্যাল সেন্টারে সুনামের সঙ্গে কাজ করছে। ’

তিনি আরো জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে কলেজে। আছে কম্পিউটার ল্যাব, ছেলেমেয়েদের আলাদা কমন রুম, উন্নতমানের ক্যান্টিন। কলেজটির লাইব্রেরিতে রয়েছে পাঁচ হাজারের বেশি পাঠ্য বই ও শতাধিক জার্নাল। শিক্ষকদের জন্যও রয়েছে আলাদা লাইব্রেরি। আছে বিশেষায়িত সুবিধা, যেমন— আইসিইউ, সিসিইউ ইউনিট। এ ছাড়া রোগ নির্ণয়ে আছে প্রায় সব রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা। ফলে শিক্ষার্থীরা সহজেই আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার শিখছে। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের নিয়ে বিভিন্ন সময় সেমিনারের আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। দেশের বাইরে থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য আছে আবাসিক সুবিধা। সম্প্রতি ছাত্রীদের আবাসিক ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিবছর পাঁচজন দরিদ্র মেধাবী ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ পায়।

প্রতিবছর বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদ্যাপন করা হয়। আয়োজন করা হয় নবীনবরণ, বিদায় অনুষ্ঠান, শিক্ষা সফর ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নাটক, নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে নিজেদের উপস্থাপন করার চেষ্টা করে। শিক্ষার্থীদের শারীরিক বিকাশের জন্য ইনডোর ও আউটডোর গেমসের আয়োজন করা হয়। এত সব কর্মকাণ্ডের পরও পেশাগত পরীক্ষায় এগিয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ।


মন্তব্য