kalerkantho

পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

ইসলাম ও আগের ধর্মে মিহরাব

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৩:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইসলাম ও আগের ধর্মে মিহরাব

১০. সে [জাকারিয়া (আ.)] বলল, হে আমার রব, আমাকে একটা নিদর্শন দাও। তিনি (আল্লাহ) বলেন, তোমার নিদর্শন এই যে তুমি সুস্থ থাকা সত্ত্বেও কারো সঙ্গে তিন দিন বাক্যালাপ করবে না।

১১.  অতঃপর সে মিহরাব থেকে বের হয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে এলো এবং ইঙ্গিতে তাদের সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করতে বলল। [সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ১০-১১ (দ্বিতীয় পর্ব)]।

তাফসির : একদিকে জাকারিয়া (আ.) ছিলেন বয়োবৃদ্ধ, অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী ছিলেন বন্ধ্যা। এমন পরিস্থিতিতে সন্তানের জন্ম দেওয়ার সুসংবাদ অতীব বিস্ময়কর। যদিও আল্লাহর শক্তিমত্তা ও অসীম কুদরত সম্পর্কে জাকারিয়া (আ.) সম্যক অবগত ছিলেন, তথাপি তিনি আরো বেশি আত্মিক প্রশান্তি ও কৌতূহল দূর করার জন্য সন্তান জন্ম দেওয়ার আলামত দেখতে চেয়েছেন। মহান আল্লাহ তাঁকে এভাবে তাঁর নিদর্শন দেখিয়েছেন যে জাকারিয়া (আ.) সুস্থ থাকা সত্ত্বেও কারো সঙ্গে তিন দিন কথা বলতে সক্ষম হবেন না। নির্দিষ্ট সময়ে তিনি সে নিদর্শন দেখতে পান। মিহরাব থেকে বের হয়ে তিনি দেখেন যে তিনি সুস্থ থাকা সত্ত্বেও কথা বলতে পারছেন না। পরে তিনি ইঙ্গিতে লোকদের আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করতে বলেন। মিহরাব শব্দটি বলার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণত মসজিদে ইমামের দাঁড়ানোর জায়গার কথা চোখের সামনে চলে আসে। কিন্তু এখানে মিহরাব বলতে সে জায়গাটি বুঝানো হয়নি। খ্রিস্টান ও ইহুদিদের গির্জা ও উপাসনালয়গুলোতে মূল উপাসনা গৃহের সঙ্গে লাগোয়া ভূমি সমতল থেকে যথেষ্ট উঁচুতে যে কক্ষটি তৈরি করা হয়, তাকেও মিহরাব বলা হয়। এই কক্ষের মধ্যে উপাসনালয়ের খাদেম ও পুরোহিতরা অবস্থান করে থাকে।

আলোচ্য আয়াতের ব্যাখ্যায় ড. ওহাবা জুহাইলি (রহ.) লিখেছেন, ওই মিহরাব ছিল জাকারিয়া (আ.)-এর প্রার্থনাগৃহ। সেখানেই তিনি সন্তান লাভের সুসংবাদ পেয়েছেন। আগের আসমানি কিতাবগুলোতে ওই কক্ষের নাম ‘মাজবাহ’। সকাল-সন্ধ্যায় মানুষ ওই ঘরের সামনে নামাজের জন্য ভিড় করত। (এটা স্বতঃসিদ্ধ যে আগের আসমানি ধর্মেও নামাজের বিধান ছিল, যদিও তার পদ্ধতি ইসলামের নামাজের চেয়ে ভিন্ন ছিল)।

লোকদের ভিড় দেখে জাকারিয়া (আ.) প্রার্থনা সমাপ্ত করার ইঙ্গিত দেন। তিনি মুখে কথা বলতে সক্ষম হননি। (আততাফসিরুল মুনির : ৮/৩৯২)।

কিন্তু ইসলামের মসজিদ স্থাপত্যশৈলীতে যে মিহরাব দেখা যায়, সেটি আগের ধর্মের মিহরাব থেকে ভিন্ন।

কেবলার দিকের দেয়াল ঘেঁষে ইমামের দাঁড়ানোর স্থানে একটু বাড়িয়ে মসজিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত স্থানে যে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়, তাকে মিহরাব বলা হয়। এখানে সম্মানিত ইমাম দাঁড়িয়ে নামাজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। মিহরাব শব্দটি আরবি ‘হরব’ শব্দমূল থেকে নির্গত। ‘হরব’ অর্থ বর্শা। কথিত আছে যে ইসলামের প্রথম যুগে মিহরাবে যুদ্ধাস্ত্র রাখা হতো। ইতিহাসবিদ মাকরিজি ও ইবনে দুকমাকের মতে, মসজিদে নববীতে কোনো মিহরাব ছিল না। পরে মসজিদে নববী পুনর্নির্মাণের সময় খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ (রহ.) সেখানে মিহরাব নির্মাণ করেন। এটাই ইসলামের সর্বপ্রথম মিহরাব।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

মন্তব্য