kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

দুনিয়ার জীবন উত্তম আমলের পরীক্ষাকেন্দ্র

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১২:০৪



দুনিয়ার জীবন উত্তম আমলের পরীক্ষাকেন্দ্র

৭. পৃথিবীতে যা কিছু আছে, আমি তা তার জন্য শোভা বানিয়েছি, যেন আমি পরীক্ষা করতে পারি মানুষের মধ্যে আমলে কে শ্রেষ্ঠ। (সুরা : কাহফ, আয়াত : ৭)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, মানুষের ঈমান আনার ব্যাপারে মহানবী (সা.) জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন। তার পরও বহু মানুষ ঈমান আনেনি। আলোচ্য আয়াতে তাদের ঈমান না আনার কারণ বর্ণনা করা হয়েছে। এ আয়াতের মূলকথা হলো, কাফিরদের ঈমান না আনার মূল কারণ হলো, তারা পৃথিবীর চাককিচ্য দেখে মোহগ্রস্ত হয়েছে। দুনিয়ার জীবনকেই তারা একমাত্র জীবন জ্ঞান করেছে। অথচ পৃথিবীর এই অপরূপ সাজ ও মুগ্ধকর সরঞ্জাম সাময়িক। নিছক মানুষের পরীক্ষার জন্য এগুলোর সমাবেশ ঘটানো হয়েছে। বাহ্যত এ সব কিছু ভোগের সামগ্রী হলেও এগুলো পরীক্ষার উপকরণ। এগুলোর মাঝখানে মানুষকে পাঠিয়ে দেখা হচ্ছে কে দুনিয়ার মন-মাতানো সামগ্রীর মধ্যে হারিয়ে যায় আর কে সত্যের পথে পরিচালিত হয়।

অর্থ-সম্পদ, ক্ষমতা, সম্মান, প্রভাব-প্রতিপত্তি মানুষের জন্য এত বেশি লোভনীয় করা হয়েছে যে বেশির ভাগ মানুষ এগুলোর প্রেমে পড়ে আল্লাহ ও পরকাল ভুলে যায়। অথচ পার্থিব জীবনের এসব চাকচিক্য ক্ষণস্থায়ী। একদিন এগুলোর কোনো কিছুরই অস্তিত্ব থাকবে না। এগুলো পরীক্ষাস্বরূপ। তিনি দেখতে চান, এসব নিয়ামত কে সঠিকপথে ব্যবহার করে আর কে তার অপব্যবহার করে। মহান আল্লাহ দেখতে চান, মানুষের মধ্যে কে তার আমল ও কর্মে শ্রেষ্ঠ। অর্থাৎ শ্রেষ্ঠতম কাজ বা উত্তম আমল দেখার জন্যই মহান আল্লাহ মানুষের জন্য সুন্দর এ পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। আলোচ্য প্রথম আয়াতসহ পবিত্র কোরআনের মোট চারটি আয়াতে এ বক্তব্য ধ্বনিত হয়েছে। বাকি তিনটি আয়াত হলো—এক. ‘তিনি (আল্লাহ) সেই সত্তা, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। আর তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর, যেন তিনি যাচাই করতে পারেন, তোমাদের মধ্যে কে কর্মে শ্রেষ্ঠ...।’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ৭)। দুই. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আমি তো তার শ্রমফল নষ্ট করি না, যে ব্যক্তি উত্তমরূপে আমল করে।’ (সুরা : কাহফ, আয়াত : ৩০)। তিন. ‘তিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন, তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য—কে তোমাদের মধ্যে কর্মে উত্তম? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।’ (সুরা : মুলক, আয়াত : ২)

এ আয়াতগুলোর দিকে গভীরভাবে তাকালে দেখা যায়, ‘মহান আল্লাহ মানুষকে বেশি বেশি নেক আমল করার জন্য সৃষ্টি করেছেন’—এমন কথা আয়াতগুলোতে বলা হয়নি। বরং উত্তম আমল বা শ্রেষ্ঠতম আমল করার জন্য মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এর জন্য শর্ত হলো—এক. প্রতিটি কাজ একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হতে হবে। দুই. ওই আমল মহানবী (সা.)-এর নিয়ে আসা শরিয়ত মোতাবেক হতে হবে। এই দুই শর্তের কোনো এক শর্ত লঙ্ঘন করে যত আমল করা হোক না কেন, আল্লাহর কাছে তার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।

তাই আমল ও ইবাদত বেশি পরিমাণে করার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো তা বিশুদ্ধ পদ্ধতিতে হওয়া এবং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ



মন্তব্য