kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

কোরআনের বক্তব্য ও বিধান সুপ্রতিষ্ঠিত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১১:১০



কোরআনের বক্তব্য ও বিধান সুপ্রতিষ্ঠিত

২. আল্লাহ একে (কোরআন) করেছেন সুপ্রতিষ্ঠিত, তাঁর কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য। এবং সৎকর্মপরায়ণ ঈমানদারদের সুসংবাদ দেওয়ার জন্য যে তাদের জন্য রয়েছে উত্তম পুরস্কার।

৩. সেখানে তারা হবে চিরস্থায়ী। (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২-৩)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, মহান আল্লাহ কোরআন অবতীর্ণ করেছেন। এই কোরআনের বক্তব্য ও বিধানে কোনো ধরনের বক্রতা নেই। আলোচ্য প্রথম আয়াতে কোরআনের অন্য একটি বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, মহান আল্লাহ কোরআনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। আগের আসমানি কিতাবগুলোর তুলনায় কোরআনের বক্তব্য ও বিধান বেশি সুস্পষ্ট ও সুপ্রতিষ্ঠিত। আর বিধান দেওয়ার ক্ষেত্রে মানবকল্যাণের বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে। এই কোরআন এসেছে মানুষকে আল্লাহর শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য। পাশাপাশি এই কোরআন সৎকর্মপরায়ণ ঈমানদারদের জান্নাতের সুসংবাদ দেয়।

আল্লাহর পথে যেকোনো ত্যাগের বিনিময়ে সর্বোত্তম প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদিই শুধু নেক আমল নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যা কিছু করা হয় সবই সৎকর্ম হিসেবে গণ্য হবে। আল্লাহর পথে ঈমানদারের যেকোনো ত্যাগ সৎকর্ম হিসেবে বিবেচিত হবে। মহান আল্লাহ এর জন্যও তাঁর বান্দাকে উত্তম প্রতিদান দান করবেন। অমুসলিমদের পক্ষ থেকে যেসব আঘাত মুসলমানদের ওপর আসে, এর বিনিময়েও আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মহাপুরস্কার দেবেন। ঈমানদারের কোনো নেক আমল বিনষ্ট হয় না। আল্লাহর পথে অর্থ ব্যয়েও পুরস্কার আছে। কোনো উপত্যকায় সফর করলেও পুরস্কার আছে। আল্লাহর পথে প্রতি কদমে নেকি রয়েছে।

তাফসিরবিদরা আলোচ্য আয়াতের অধীনে লিখেছেন, এখানে যে উত্তম পুরস্কারের কথা বলা হয়েছে তা হলো চিরস্থায়ী জান্নাত। কিন্তু এটা পরকালের প্রতিদান। পরকালের প্রতিদানের আগে দুনিয়ায়ও প্রতিদান রয়েছে। ঈমান ও আমলের সুফল দুনিয়ায়ও পাওয়া যায়। এ বিষয়ে অন্য আয়াতে এসেছে, ‘মুমিন হয়ে পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে কেউ সৎ কাজ করবে, অবশ্যই তাকে আমি পবিত্র জীবন দান করব। আর তাদেরকে তাদের কর্মের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দান করব।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯৭)

দ্বিতীয় আয়াতে জান্নাতের একটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে। জান্নাত অনন্তকালের আবাসস্থল। জান্নাতবাসীরা সেখানে চিরকাল থাকবে। জান্নাত মানুষের প্রাপ্য বা অধিকার নয়। এটি সৎ মানুষের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ। তিনি শুধু তাঁর পছন্দের মানুষকেই জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেবেন। হাদিস শরিফে এসেছে, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের কেউ নিজের আমলের মাধ্যমে জান্নাতে যেতে পারবে না।’ সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনিও কি আমলের মাধ্যমে জান্নাতে যেতে পারবেন না?’ মহানবী (সা.) বলেন, ‘হ্যাঁ, আমিও পারব না। কিন্তু আল্লাহ আমাকে তাঁর রহমত দিয়ে ঢেকে নিয়েছেন।’ (বুখারি)

জান্নাত ঈমানদারের প্রতি আল্লাহর পুরস্কার। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ মুমিন নর-নারীকে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যার নিচে নদী প্রবাহিত। সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে। চিরস্থায়ী জান্নাতে উত্তম বাসস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে। সবচেয়ে বড় নিয়ামত হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। এটাই মহাসাফল্য।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৭২)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ 



মন্তব্য