kalerkantho


কেমন রোবট ব্যবহার করা জায়েয?

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ২০:০৫



কেমন রোবট ব্যবহার করা জায়েয?

রোবট, একটি যান্ত্রিক কিংবা কাল্পনিক, কৃত্রিম কার্যসম্পাদককে বলা হয়। এটি সাধারণত একটি ইলেক্ট্রো-যান্ত্রিক ব্যবস্থার নাম, যার কাজকর্ম, অবয়ব ও চলাফেরা দেখে মনে হয় এটি স্বেচ্ছায় কাজ করছে। যেহেতু এখন আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্সের যুগ। তাই এদের কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও আছে। প্রযুক্তি নির্ভর বর্তমান বিশ্বে রোবট বিভিন্ন কাজে মূলত মানুষের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মানুষের দৈনন্দিন কাজকে সহজ করতে দিন দিন এ শিল্পকে আরো উন্নত করার চেষ্টা চলছে। পিছিয়ে নেই আমাদের বাংলাদেশও। গত ১৬ নভেম্বর রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় উদ্বোধন হয়ে গেল রোবট রেস্টুরেন্ট। যেখানে যে কেউ নিতে পারবে রোবটের সেবা। ইতোমধ্যেই ঢাকায় পৌঁছেছে সৌদি রোবট নাগরিক সোফিয়া। যে কিনা মানুষের ভাবভঙ্গি বুঝতে ও হাসি-কান্না, রাগ-অভিমানসহ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে বলে দাবী করা হয়েছে। কেউ তার সঙ্গে কথা বললে তাদের বোঝার চেষ্টা করে সে। সামনে মানুষ না থাকলে নিজে নিজে মুভি চালিয়ে দেখে। ভাবতে পারে জগৎ, সংসার, সংস্কৃতি ও দর্শন নিয়েও। বুঝা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই আমাদের পরিবারের অংশ হতে চলেছে রোবট। তাই রোবটের শরয়ী দিকগুলো নিয়েও কিছুটা আলোচনা হওয়া সময়ের দাবী।

কেমন রোবট ব্যবহার করা জায়েয : যে সকল রোবট মূলত মূর্তি (মানুষ বা কোনো প্রাণীর অবয়বে বানানো) তা ব্যবহার সম্পূর্ণ হারাম। কেননা কোনো প্রাণীর-মূর্তি নির্মাণ করা ইসলামী শরীয়তে কঠিন কবীরা গুনাহ ও হারাম । মূর্তি সংগ্রহ, মূর্তি সংরক্ষণ এবং মূর্তির বেচাকেনা ইত্যাদি সকল বিষয় ইসলামে কঠিনভাবে নিষিদ্ধ। মূর্তিপূজার কথাতো বলাই বাহুল্য, মূর্তি নির্মাণেরও কিছু কিছু পর্যায় এমন রয়েছে যা কুফরী। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা পরিহার কর অপবিত্র বস্তু অর্থাৎ মূর্তিসমূহ এবং পরিহার কর মিথ্যাকথন।’ -সূরা হজ্জ : ৩০

এই আয়াতে পরিস্কারভাবে সবধরনের মূর্তি পরিত্যাগ করার এবং মূর্তিকেন্দ্রিক সকল কর্মকান্ড বর্জন করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে রোবট যদি কোনো প্রাণী অবয়বে না বানানো হয় তাহলে তা ব্যবহার করা জায়েয হবে। যেমন বিশ্বের প্রথম রান্না করতে জানা রোবট মোলি, যে কি না একশতরো বেশি পদ রান্না করতে জানে। ২০১৮ সালেই তারা মলিকে বিশ্বের প্রথম অটোমেটিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট হিসেবে বাজারে আনবে। (সুত্র : িি.িভড়ৎনবং.পড়স ও যঃঃঢ়://িি.িসড়ষবু.পড়স/)

রোবটের সাথে বিয়ে : সম্প্রতি সোফিয়া নামক রোবটটি বাংলাদেশে আসার পর অনেক তরুনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুষ্টমির ছলে সোফিয়াকে বিয়ে করার আসা ব্যক্ত করেছে। এতে অনেকের মনে এ প্রশ্ন জাগতেই পারে যে রোবটকে বিয়ে করা কেন জায়েয হবে না। চলুন তবে সে বিষয়েও কিছুটা আলোচনা করা যাক। সূরা নাহালের ৭২ নাম্বার আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, “আর আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন” সূরায়ে নিসার ৩ নাম্বার আয়াতে মহান রাব্বুল আলামীন আরো বলেন, “তাহলে তোমরা বিয়ে কর নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে”। বুঝা গেল আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে যে নারীকে বিয়ে করার কথা বলেছেন সে আদম সন্তান। সুতরাং অন্য কোনো জাতির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া জায়েয নেই। (ফাতাওয়ায়ে শামী ৩/৫, বাদাইউস সানায়ে’ ৭/৩৬)

রোবটের মাধ্যমে জৈবিক চাহিদা পূরণ : বর্তমান দুনিয়াতে জৈবিক চাহিদা পূরণের জন্য কিছু সেক্স রোবট/ সেক্স ডল বানানো হয়। যা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও হারাম কাজ। এধরণের উদ্ভাবন বিশ্বকে দ্রুত ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, “(অবশ্যই মুমিনগণ সফল হয়েছে) … আর যারা তাদের নিজদের লজ্জাস্থানের হিফাযতকারী। তবে তাদের স্ত্রী ও তাদের তাদের মালিকানা (শরয়ী) বান্দি ছাড়া, নিশ্চয় এতে তারা নিন্দিত হবে না। অতঃপর যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী। (সূরা মু’মিনুন আয়াত নং ১ ও ৫-৭)

তাফসীরে মাআরিফুল কুরআনে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লেখা হয়েছে, নিজের বিবাহিতা স্ত্রী কিংবা শরীয়তসম্মত বান্দী (যা বর্তমানে মানসুখ হয়ে গেছে) ছাড়া আর কোনো পদ্ধতিতে জৈবিক চাহিদা পূরণ করার সুযোগ নেই। এ দুটি পদ্ধতি ছাড়া পৃথিবীতে জৈবিক চাহিদা পূরণের যত পন্থা আছে সব নিষিদ্ধ। (তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন উর্দু : ৬/২৯৭)

লেখক : প্রাবন্ধিক, গবেষক



মন্তব্য