kalerkantho


কৃপণতা : সফল জীবনের অন্তরায়

রায়হান রাশেদ   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৯:৩৩



কৃপণতা : সফল জীবনের অন্তরায়

ইসলাম মানুষের ধর্ম। পৃথিবীর সভ্য ও শ্রেষ্ঠ ধর্ম। নীতি নৈতিকতা ও মধ্যপন্থার ধর্ম। ইসলাম মানুষকে শিক্ষা দেয় শুদ্ধ জীবন গড়ার। সফলতার শহরে ঘুরে বেড়াতে উৎসাহিত করে। মানুষকে ভালোবেসে সৎপথে চলতে এবং সুন্দর জীবন চালাতে প্রণোদিত করে। 

ইসলাম শিক্ষা দেয় মিতব্যয়িতা; পছন্দ করে না কৃপণতা ও অপব্যয়। আল্লাহ মানব জাতিকে দান ও বিসর্জন করতে উৎসাহিত করেছেন। অফুরন্ত সওয়াবের ঘোষণা দিয়েছেন। আবার সর্বস্ব বিলিয়ে নিজে এবং পরিবারকে পথে নামাতে বলেননি। মধ্যপন্থা ও মিতব্যয়িতা বজায় রাখতে বলেছেন। পবিত্র কোরআনে ঘোষিত হয়েছে 'এবং তুমি তোমার হাত গ্রীবায় আবদ্ধ করে রেখো না এবং তা সম্পূর্ণ প্রসারিত করো না। তাহলে তুমি নিন্দিত ও নিস্ব হবে।' বনী ঈসরাইল-২৯। 

কৃপণতা মহান প্রতিপালকের কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত ও অপছন্দনীয় কাজ। তদ্রুপ মানুষের অন্তরেও কৃপণ ব্যক্তির ঠায় নেই। কৃপণতা সবখানে প্রত্যাখিত ও বঞ্চিত এবং কলঙ্কিত। মানবতার পথে অন্তরায় তৈরি করে । মানবতা বিবর্জিত কর্ম হলো কৃপণতা। সত্য সমাজ গঠনে বড় বাধা তৈরি করে মানুষের এ রোগ। কৃপণতার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় কিছু দুঃখী মানুষের জীবন। মানবতা বিবর্জিত এ ধ্বংসত্মক সাপ; ব্যক্তি জীবনে সুফল বইয়ে আনতে অক্ষম। আল্লাহ বলেন, 'আর কার্পণ্য কেউ করলে এবং নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে আর যা উত্তম তা অস্বীকার করলে, তার জন্যে আমি সুগম করে দেব কঠোর পথ। এবং তার সম্পদ তার কোনো কাজে আসবে না যখন সে ধ্বংস হবে।' সূরা লাইল ৮-১১।

অর্থবান হওয়া আল্লাহর বিশেষ করুণা ও দান। কখনো অর্থ মানুষকে পরীক্ষার বাহুডুরে আবদ্ধ করার জন্য দেওয়া হয়। আবার যাদের অর্থ বৈভব নেই, তারা আল্লাহর কাছে উপেক্ষিত বা অপছন্দনীয় নয়। সবি খোদায়ী অভীক্ষার কারিশমা। সম্পদের অধিকারী মানুষ তার আশপাশের পড়শী, আত্মীয়-কুটুম, অনাহারী, অবহেলিত দুঃখী মানুষের হাতে তার সম্পদের অংশ পৌঁছাবে। দুঃখীকে ভালোবেসে সাহায্য করবে। গরীব অসহায়কে উপেক্ষিত করে অর্থ সঞ্চয় ও কৃপণতা করা বড়ই জঘন্য ও কলঙ্কিত বিষয়। অনাহারী মানুষের ব্যথিত হৃদয়ের তাপে গলে যাবে অর্থকুড়ির বৈভব। কেঁপে ওঠবে খোদার আরশ। জেগে ওঠবে জাগ্রত বিবেক। অসহায়ের মন মিনার ছুঁয়ে আছে খোদার আরশ । ইসলামের নবি মানব সভ্যতার সেরা শিক্ষক মুহাম্মদ সা. তাদের হৃদয় জুড়ে বেঁচে আছে। 

গরীব অসহায়কে ভালোবাসার মিছিলে শামিল করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবার মধ্যে রয়েছে প্রভুর নৈকট্যতা। মালিকের শ্রেষ্ঠ গোলাম হওয়ার স্বাক্ষরতা। নিজের জন্য রেখে মানুষকে দুহাতে দান করতে পারলে জীবন হবে উজ্জল আলোকবিভায় আকীর্ণ। আল্লাহ বলেন, 'আর যারা প্রবৃত্তির লালসা ও মনের সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত রয়েছে, তারাই পরকালে সফলকাম হবে।' সূরা তাগাবুন ১৮। 

জগতের সেরা সফল শিক্ষক মুহাম্মদ সা. গেয়েছেন মানবতার গান। শুনিয়েছেন সাম্যের বাণী। স্বাক্ষর রেখেছেন কাজকর্মে। নিজের অতিরিক্ত খাবার, আসবাবপত্র অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন সকলের মাঝে। থেকেছেন নিজে অভোক্ত। না খেয়ে দিবসরজনী কাটিয়েছেন। তিনি সভ্য জাতির আদর্শ। আমাদের পথিকৃৎ। তিনি মানুষকে বলেগেছেন কৃপণতা থেকে বিরত থাকতে। 

কৃপণতা ডেকে আনে সমাজ জাতিতে ধ্বংস। ঘটায় রক্তপাত। কারণ অধিকার বঞ্চিত মানুষ এক সময় জেগে ওঠে। দাবি করে অধিকার রক্ষার। প্রাপ্য আদায়ের। সুশংখল জীবনে তৈরি করে প্রাণহানির পথ; পূর্ববর্তী ইতিহাস তার স্বাক্ষী। আজও পূর্ববর্তী ইতিহাস কাতর কণ্ঠে আওয়াজ তুলে- কৃপণতা তাদের জীবন বিপন্ন করেছে। ধ্বংস করেছে জীবন জগত সংসার। হাদিসে এসেছে- জাবির রা. থেকে বণিত- রাসুল সা. বলেছেন, ‘জুলুম করা থেকে বিরত থাকো, কারণ জুলুম ও অত্যাচার কিয়ামতের দিন অন্ধকারে পরিণত হবে। আর কৃপণতা থেকে দূরে থাকো, কারণ কৃপণতা আর সংকীর্ণতাই তোমাদের পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করে দিয়েছে। ওই কৃপণতাই তাদের নিজেদের রক্তপাত করতে ও হারামকে হালাল করে নিতে উদ্বুদ্ধ করে।' মুসলিম। 

সংকীর্ণতা ও কৃপণতার ধুম্রজাল ছিড়ে আমাদের জীবন ঘুড়ি উড়–ক মিতব্যয়িতার গগনে। সবকালে কৃপণতার অবসান হোক আমাদের জীবন শহর থেকে।


মন্তব্য