kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো

কোরআনে মহানবী (সা.)-এর জন্ম ও মৃত্যু প্রসঙ্গ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৯:৫২



কোরআনে মহানবী (সা.)-এর জন্ম ও মৃত্যু প্রসঙ্গ

১২৮. অবশ্যই তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের কাছে একজন রাসুল এসেছেন। [সুরা তাওবা, আয়াত : ১২৮ (প্রথমাংশ)]

তাফসির : গোটা সুরা তাওবায় যুদ্ধবিগ্রহ, আরবের কাফিরদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদসহ কঠিন কঠিন বিধান দেওয়া হয়েছিল।

তাই সুরার শেষের দিকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে মহানবী (সা.) তোমাদেরই লোক। আরবেই তাঁর জন্ম। মানুষের গণ্ডিভুক্ত হয়েই তিনি এসেছেন। তিনি এসেছেন মানবতার নবী হয়ে, রহমতের বার্তা নিয়ে। মানবতার প্রতি তাঁর ভালোবাসার অন্ত নেই। মানুষের কষ্ট তাঁকে পীড়া দেয়। তাই মানুষের সাধ্যের বাইরে কোনো নির্দেশনা তিনি দেবেন না।
কোরআনের শেষ আয়াত কোনটি : হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.)-এর মতে, আলোচ্য আয়াত কোরআনের সর্বশেষ আয়াত। (মুসতাদরাকে হাকেম)

হজরত বারা বিন আজেব (রা.)-এর মতে, কোরআনের শেষ সুরা হলো সুরা তাওবা আর শেষ আয়াত হলো সুরা নিসার ১৭৬ নম্বর আয়াত।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর মতে, কোরআনের সর্বশেষ আয়াত হলো সুরা বাকারার ২৮১ নম্বর আয়াত। আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার ৮০ দিন পর মহানবী (সা.) ইন্তেকাল করেন। (বুখারি ও মুসলিম)

কোরআনে মহানবী (সা.)-এর জন্ম ও বংশ পরিচয় : আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা আরবদের ওপর তাঁর বিশেষ অনুগ্রহের কথা তুলে ধরেছেন। বিশ্বনবীকে তিনি আরবদের বংশোদ্ভূত ও আরবি ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছেন। এটা সত্য যে পবিত্র কেরআনে মহানবী (সা.)-এর জীবনচরিত বিক্ষিপ্তভাবে বর্ণিত হয়েছে। উল্লিখিত আয়াতে তাঁর জন্ম প্রসঙ্গ বিবৃত হয়েছে। এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘বৈধভাবে বিবাহের মাধ্যমে আমার জন্ম হয়েছে। আদম (আ.) থেকে আমার পিতা-মাতা পর্যন্ত কেউ জাহেলি যুগে প্রচলিত ব্যভিচারের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেননি। ’ (তাবরানি ও ইবনে কাসির)

মহানবী (সা.)-এর জন্মের পূর্বাভাস আগের সব নবীকে দেওয়া হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘স্মরণ করো, যখন আল্লাহ নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেন যে আমি কিতাব ও জ্ঞান-প্রজ্ঞা যা কিছু তোমাদের দান করেছি, অতঃপর (যদি) তোমাদের কিতাবকে সত্যায়নকারীস্বরূপ তোমাদের কাছে কোনো রাসুল (মুহাম্মদ সা.) আসেন, তখন তোমরা অবশ্যই সে রাসুলের প্রতি ইমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে। ’  তিনি বললেন, ‘তোমরা কি (এ বিষয়ে) অঙ্গীকার (স্বীকার) করেছ এবং এই শর্তে আমার ওয়াদা গ্রহণ করে নিয়েছ?’ তারা বলল, ‘আমরা অঙ্গীকার (স্বীকার) করেছি। ’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৮১)

মহানবী (সা.)-এর ভাষা, বংশ ও শহর সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘এভাবে আমি তোমার প্রতি আরবি ভাষায় কোরআন অবতীর্ণ করেছি, যাতে তুমি মক্কা ও তার আশপাশের লোকদের সতর্ক করতে পারো। ’ (সুরা : শুরা, আয়াত : ৭)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাত প্রসঙ্গ : রাসুলুল্লাহ (সা.) শ্রেষ্ঠতম মহামানব ছিলেন। তবে তিনি অতিমানব ছিলেন না। ইন্দ্রীয় অনুভূতি ও মানবীয় গুণাবলির সংমিশ্রণেই তাঁর জীবন ছিল। তিনি হাঁটতেন। বাজারে যেতেন। খাওয়াদাওয়া করতেন। স্ত্রীদের সঙ্গে শয্যায় যেতেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বলো, আমি তো তোমাদের মতো একজন মানুষই, তবে আমার প্রতি ওহি অবতীর্ণ হয়। ’ (সুরা : কাহাফ, আয়াত : ১১০)

মানুষ মাত্রই মরণশীল। রাসুলুল্লাহ (সা.) যেহেতু মানুষ ছিলেন, তাই তিনি মৃত্যুবরণ করাই স্বাভাবিক। আল্লাহ বলেন, ‘তুমি তো মরণশীল এবং তারাও মরণশীল। ’ (সুরা জুমার, আয়াত : ৩০) অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘মুহাম্মদ একজন রাসুল মাত্র; তার আগে বহু রাসুল গত হয়েছে। সুতরাং সে যদি মারা যায় অথবা নিহত হয়, তবে কি তোমরা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে?’ (সুরা আলে ইমরান : ১৪৪)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য