kalerkantho


ফ্যাশন

ঈদে চাই নতুন জুতা

পোশাকে আজকাল ম্যাচিং নিয়ে মাথা না ঘামালেও চলে। মনোযোগ তাই এক্সেসরিজের দিকে। বিশেষ করে জুতা-ব্যাগ মানানসই হলে সাজে পাবেন ষোলো আনা সামঞ্জস্য। উৎসবের জুতায় জৌলুসের সঙ্গে আরামও মাথায় রাখতে হয়। আবহাওয়াও ভুলে গেলে চলবে না। ঈদের জুতা ও ব্যাগের খোঁজখবর রইল

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ঈদে চাই নতুন জুতা

মেয়ে

ঈদ বাজারে ছিমছাম অল্প হিল ও স্লিপার ধরনের স্যান্ডেলের চাহিদা বেশি। আরাম পাওয়া যাবে আর ডিজাইনও আধুনিক।

বাটার বিপণন কর্মকর্তা জুবায়ের ইসলাম বলেন, ‘বর্ষা উপযোগী উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে ঈদের জুতায়। তবে ডিজাইনে গর্জিয়াস লুক থাকছে। রেগুলার ও এক্সক্লুসিভ—দুই ধরনের কালেকশন থাকছে। ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্যই জুতার সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাগের কালেকশনও আছে। ’ ডিজাইনের ভিন্নতা ও রঙের বৈচিত্র্যও আছে। বোতাম, ফুল, ফিতা আর কৃত্রিম পাথর ব্যবহার  করা হয়েছে ঈদের স্যান্ডেল ও জুতায়। স্যান্ডেলের ফিতার ডিজাইনেও থাকছে ভিন্নতা। ক্রস, রাউন্ড, সেমিরাউন্ড, বেল্টের মতো ফিতার নকশা। স্ট্র্যাপের স্যান্ডেলে অনেক ফিতার ব্যবহারে নকশাটাও হয় বেশ বাহারি। বেছে নিতে পারেন গোড়ালি ও সামনের অংশে লেস বা ফিতা পেঁচানো স্যান্ডেল। কখনো গোড়ালি থেকে শুরু করে পেঁচিয়ে একটু ওপরে একটা ফুল হয়ে থাকে। গোড়ালি আটকে চেইন দেওয়া স্যান্ডেলও রয়েছে। চাইলে পাবেন স্ট্র্যাপি হাই হিল। স্লিপার থেকে শুরু করে কয়েক ইঞ্চি হিল—সব ধরনের স্যান্ডেলই আছে। উপকরণ সিনথেটিক বা লেদার—দুই ধরনেরই হতে পারে। স্যান্ডেলের নকশা হচ্ছে বোতাম, জরি, চুমকি আর কুন্দন। হাতের কাজের মধ্যে রয়েছে ফেব্রিকস এমব্রয়ডারি আর অ্যাপ্লিকে। হালফ্যাশনের হিল চাইলে বাজারে পাবেন বক্স হিল, ওয়েজেস হিল, ক্লোজড শুন, সেমিহিল, পাম্প বা ব্যালোরিনা শু-সহ অনেক ধরনের হিল। তবে পুরো পা ঢাকা পেন্সিল হিল এবং শুধু ফিতা দিয়ে নকশা করা ফ্ল্যাট বা ওয়েজেস হিলের সংগ্রহ চোখে পড়ার মতো।

আড়ং, মান্ত্রা, যাত্রা, এনা লা মোড, কাভা কাভাসহ বিভিন্ন দোকানে পাওয়া যায় দেশি ডিজাইনের লেদারের তৈরি স্যান্ডেল। বাটা, এপেক্স, ওরিয়েন্টাল, জেনিস, ওরিয়ন, ইনফিনিটিতে পাবেন হালফ্যাশনের সব ধরনের স্যন্ডেল ও হিল শু। এ ছাড়া থাইল্যান্ড-সিঙ্গাপুর থেকে আসা স্যান্ডেল পাওয়া যাবে নামিদামি শপিং মলের জুতার দোকানগুলোতে। দামের বিষয়টি নির্ভর করবে স্যান্ডেলের উপাদান ও উপকরণের ওপর। রাবার বা স্পঞ্জের স্যান্ডেলগুলো ১৫০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যেই পেয়ে যাবেন। স্ট্র্যাপি বা স্লিপারের দাম নকশার ওপর নির্ভর করে ৩৫০ থেকে ২২০০ পর্যন্ত হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের হিল পাবেন ৯০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে।

 

ছেলে

ছেলেদের জন্য ক্যাজুয়াল ও ফর্মাল—দুই ধরনের সংগ্রহ রেখেছে ব্র্যান্ড শপ আর রকমারি জুতার দোকানগুলো। ক্যাজুয়াল সংগ্রহে থাকছে স্যান্ডেল, স্লিপার, কেডস, স্নিকার, কনভার্স ও লোফার। পিওর লেদার ও আর্টিফিশিয়াল লেদারে তৈরি স্যান্ডেলের বেশ রকমারি সংগ্রহ এসেছে ঈদ বাজারে। ফর্মাল চাইলে দেখতে পারেন ফ্যাশনেবল মোকাসিন, লেদার শু, এসপ্রাডিল কিংবা বুট শু। গরমের সময় মোজা পরা অনেকের জন্য বেশ অস্বস্তিকর। তাঁদের জন্য সেমিফর্মাল শু এনেছে ব্র্যান্ড শপগুলো। ক্যাজুয়াল ধরনের জুতা হলেও দেখতে অনেকটা ফর্মাল লুকের, তাই ফর্মাল শার্ট-প্যান্ট বা স্যুটের সঙ্গে মানিয়ে যায়। জুতার ওপেনিং বড় থাকে বলে বাতাস সহজেই চলাচল করতে পারে এবং মোজা না পরলেও সমস্যা বা অস্বস্তি হয় না। স্টাইলিশ ক্যাজুয়াল লুকের জন্য স্নিকার্স বেশ জুতসই। রাবারের সোলের সঙ্গে ওপরের অংশ কাপড়ের তৈরি। তাই সব আবহাওয়ায় আরাম দেয়। ফর্মাল লুকের স্নিকার্সও পেয়ে যাবেন খুঁজলে। কাপড় ছাড়াও সিনথেটিক ও লেদারে তৈরি হয় এসব স্নিকার্স।

 

রঙের বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রেও ছেলেরা পিছিয়ে নেই। তাই কালো বা বাদামির পাশাপাশি সাদা, সবুজ ও হলুদ, নীল বা কমলা রঙের জুতা পছন্দ করছেন অনেকেই। আড়ং, ক্যাটস আই, ইনফিনিটির মতো অনেক ফ্যাশন হাউসে পাওয়া যায় আরামদায়ক স্যান্ডেল। বাটা, এপেক্স, বে, জেনিস, ওরিয়নের মতো ব্র্যান্ড শপগুলোতে পছন্দের স্যান্ডেল ও শু মেলে। নন-ব্র্যান্ডেড স্যান্ডেল মিলবে ছোটবড় যেকোনো শপিং মলে। উপাদান ও উপকরণের ওপর নির্ভর করে দাম। রাবার বা স্পঞ্জের স্যান্ডেলগুলো পাওয়া যায় ১৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যেই। চামড়ার স্যান্ডেলের দাম ৬৯০ থেকে ২৪৫০, বুট শু ১৩৫০ থেকে ৩৬৫০, স্নিকার্স ৮৫০ থেকে ২৪৫০ এবং বিভিন্ন ডিজাইনের মোকাসিন ১৫৫০ থেকে ৪০০০ টাকা।

 

মডেল : নিপু ও রিফাত

জুতা : বাটা ও স্বপ্ন লাইফস্টাইল

ছবি : কাকলী প্রধান


মন্তব্য