kalerkantho


ঘুষসহ ধরা পড়া সেই প্রকৌশলীর নিজেকে নির্দোষ দাবি

আদালত প্রতিবেদক   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০২:৫৩



ঘুষসহ ধরা পড়া সেই প্রকৌশলীর নিজেকে নির্দোষ দাবি

ঘুষের পাঁচ লাখ টাকাসহ হাতেনাতে ধরা পড়া নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও সার্ভেয়ার ড. এস এম নাজমুল হক নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাটিতে বিচার চলছে। গতকাল মঙ্গলবার অভিযোগ গঠনের আগে বিচারক ড. শেখ গোলাম মাহবুব আসামির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযোগ পড়ে শোনানোর পর দোষী না নির্দোষ জানতে চাইলে তিনি এই দাবি করেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আসামির অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করার আদেশ দেন বিচারক। একই সঙ্গে আগামী ৭ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন। শুনানির পর নাজমুলকে আবার কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

গতকাল শুনানির শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের বিশেষ কৌঁসুলি মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর আসামির পক্ষে করা অব্যাহতির আবেদনের বিরোধিতা করেন। অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানিতে তিনি বলেন, গত বছরের ১২ এপ্রিল বিকেল পৌনে ৬টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচার একটি রেস্তোরাঁয় আসামি ঘুষের কিস্তির টাকা গ্রহণ করেন। ওই সময় ওত পেতে থাকা কমিশনের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে দুদকের বিশেষ দলের সদস্যরা আসামিকে আটক করেন। সরকারি কর্মচারী কাজ করে দেওয়ার জন্য দাবীকৃত অর্থ গ্রহণ করার পর হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ স্পষ্ট।

অন্যদিকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে দাখিল করা আবেদনের ওপর শুনানি করেন নাজমুলের আইনজীবী মোহাম্মদ মশিউর রহমান ও শাহিন আহম্মেদ। তাঁরা বলেন, এজাহারে উল্লেখ আছে ১৫ লাখ টাকার মধ্যে পাঁচ লাখ টাকা গত বছরের ১২ এপ্রিলের আগেই ঘুষ বাবদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কার সামনে দেওয়া হয়েছে তা কোথাও উল্লে¬খ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি স্পষ্ট যে এজাহারে বর্ণিত ঘটনা সম্পূর্ণ সাজানো।

মামলাটির তদন্ত শেষে গত বছরের ১৮ অক্টোবর মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল ওয়াদুদ দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় নাজমুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

অভিযোগে বলা হয়, মেসার্স সৈয়দ শিপিং লাইনস তাদের এমভি প্রিন্স অব সোহাগ নামের যাত্রীবাহী নৌযানের নকশা অনুমোদন এবং নতুন নামকরণের অনাপত্তিপত্রের জন্য নাজমুল হকের কাছে গেলে তিনি ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। সংশ্লিষ্ট পক্ষ বিষয়টি দুদককে অবহিত করে। এর পর দুদক সব বিধি-বিধান অনুসরণ করে ফাঁদ পাতে। গত বছরের ১২ এপ্রিল সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় হোটেলে বসে নাজমুল হক ঘুষের টাকার কিস্তি বাবদ পাঁচ লাখ টাকা গ্রহণ করার সময় ওত পেতে থাকা দুদকের সদস্যরা তাঁকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেন। ওই দিনই রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলাটি করা হয়। 

প্রসঙ্গত, নাজমুল গ্রেপ্তার হওয়ার পাঁচ মাস পর হাইকোর্ট থেকে গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর জামিন পান। গত ২৩ জানুয়ারি ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েস চার্জশিট আমলে নিয়ে মামলাটি বিচারের জন্য এ আদালতে বদলি করে দেন। ওই দিন আসামি আদালতে হাজির না থাকায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর গত ২৮ জানুয়ারি নাজমুল আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।



মন্তব্য