kalerkantho


ওষুধ খেয়ে ৭৬ শিশুর মৃত্যু : ২৬ বছর পর তিনজন খালাস

দণ্ডিত জামিন পেলেন আপিলের শর্তে

আদালত প্রতিবেদক   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২০:৫০



ওষুধ খেয়ে ৭৬ শিশুর মৃত্যু : ২৬ বছর পর তিনজন খালাস

প্যারাসিটামল সিরাপে ক্ষতিকর ডাই-ইথিলিন গ্লাইকলের বিষক্রিয়ায় ৭৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় বর্তমানে বিলুপ্ত পলিক্যাম ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ তিনজন খালাস পেয়েছেন। মাত্র এক বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানটির পরিচালককে মামলায় রায়ের পর আপিলের শর্তে ফের জামিন দেওয়া হয়েছে।  

 মামলায় খালাস পেয়েছেন, পলিক্যাম ল্যাবরেটরিজের ব্যবস্থাপক এ এম এম গোলাম কাদের (পলাতক), ফার্মাসিস্ট মো. মাহবুবুল আলম ও দেলোয়ার হোসেন। 

দণ্ডপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানটির ওই পরিচালকক আবদুর রবকে বিনাশ্রম কারাভোগের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা গুনতে হবে। অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে অতিরিক্ত তিন মাস কারাভোগ করতে হবে বলে রাযের আদেশে প্রকাশ। 

ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ ও ‌ওষুধ আদালতে ২৬ বছর ঝুলে থাকা এ মামলায়  আজ বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট বিচারক সৈয়দ কামাল হোসেন রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের সময় জামিনে থাকা তিন আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষনার পর আপিলের শর্তে দণ্ডিত আসামিকে জামিন দেওয়ার আবেদন করা হলে ফের জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক।  

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করা সরকারি কৌসুলি মো. নাদিম মিয়া জানান, অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানে ব্যর্থতায় তিনজনকে খালাস দেওয়া হয়। 

আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূইয়া মামলা পরিচালনা করেন। তিনি জানান, মামলার আরেক আসামি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশিদ বিচার চলাকালীন সময়ে মারা গেছেন। 

বিবরনে জানা গেছে, প্যারাসিটামল সিরাপে বিষাক্ত উপাদান থাকায় ১৯৮৯ থেকে ১৯৯২ সালের মধ্যে বহু শিশু কিডনি সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে অন্তত ৭৬ জনের মৃত্যু হয়। 

এর প্রেক্ষিতে পলিক্যাম ফার্মাসিটিক্যালের কামরাঙ্গীচরে কারখানায় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে প্যারাসিটালের স্যাম্পল সংগ্রহ করেন। ওই সময় পাঁচটি ঔষধ তৈরি প্রতিষ্ঠানের প্যারাসিটামল সিরাপে ক্ষতিকর ডাই-ইথিলিন গ্লাইকলের উপস্থিতি ধরা পড়ে।

এ ঘটনায় ভেজাল প্যারাসিটামলে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ এনে ১৯৯২ সালের ১৯ ডিসেম্বর মামলাটি করেন তৎকালীন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক মো. আবুল খায়ের চৌধুরী।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ পাচজনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিলের পর ১৯৯৩ সালের ৬ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। 

ওই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আসামিদের করা আবেদনে মামলার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। ২০ বছর পর ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলে ২০১৫ সালের অক্টোবরে মামলার বিচার শুরু হয়।  সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষে তিনজন সাক্ষি দেন। আসামিদের পক্ষে একজন সাফাই সাক্ষি দেয়। চলতি বছরের গত ২৪ জানুয়ারি দুইপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের দিন ধার্য হয়।



মন্তব্য