kalerkantho


এমপিদের শপথের বৈধতা নিয়ে রিটের আদেশ ১৮ ফেব্রুয়ারি

বিশেষ প্রতিনিধি    

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০৩:০৫



এমপিদের শপথের বৈধতা নিয়ে রিটের আদেশ ১৮ ফেব্রুয়ারি

একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নেওয়া শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দাখিল করা রিট আবেদনের ওপর আদেশ দেওয়া হবে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি। গতকাল বুধবার শুনানি শেষে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাহেরুল ইসলাম তৌহিদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন গত ১৫ জানুয়ারি এ রিট আবেদন করেন। 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও মমতাজউদ্দিন ফকির, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ, মোতাহার হোসেন সাজু ও মোখলেসুর রহমান। রিট আবেদনকারীপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব ও ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান। 

শুনানিতে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, সংবিধানের ৭২(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দশম জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২৮ জানুয়ারি। অথচ দশম জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই একাদশ সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা গত ৩ জানুয়ারি শপথ নিয়েছেন। এই শপথ নেওয়ার পর দুটি জাতীয় সংসদ হয়েছে। আর সংসদ সদস্যের সংখ্যা হয়ে গেছে ৬০০। এটা সংবিধানের ১২৩(৩) ও ১৪৮(৩) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। 

এরপর আদালত ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনকে এসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন করেন।

শুনানির একপর্যায়ে আদালত বলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। এরপর শেখ হাসিনাকে সরকার গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সরকার ছাড়া একটি রাষ্ট্র এক সেকেন্ডও চলতে পারে না। প্রতিটি সরকারের একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা আছে। আদালত বলেন, সংসদ না বসলেও সরকার চলবে। আর সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েই তো অধিবেশন শুরু করেননি। ৩০ জানুয়ারি অধিবেশনের মধ্য দিয়ে শপথ কার্যকর হয়েছে। আদালত বলেন, ‘এই একটা মামলা নিয়ে দুই দিন শুনানি হয়েছে। এই আদালতে আরো অনেক মামলা আছে। তাই এটি নিয়ে আর শুনানি করব না। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেওয়া হবে।’

গত ১৬ জানুয়ারি এ রিট আবেদনের ওপর বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হয়। পরদিন ১৭ জানুয়ারি রিট আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করেন আদালত। এ অবস্থায় বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়। এই বেঞ্চে গত মঙ্গলবার ও গতকাল শুনানি হয়।

নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নেওয়া শপথ বাতিল করে নতুন করে গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), জাতীয় সংসদের স্পিকার ও মন্ত্রিপরিষদসচিবের কাছে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন গত ৮ জানুয়ারি আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশের জবাব না পেয়ে রিট আবেদন করা হয়।



মন্তব্য