kalerkantho


দীপন হত্যা: চার্জশিটে মেজর জিয়াসহ এবিটির ৮ জন

আদালত প্রতিবেদক   

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০২:৪৫



দীপন হত্যা: চার্জশিটে মেজর জিয়াসহ এবিটির ৮ জন

রাজধানীর শাহাবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে প্রকাশক ও লেখক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জঙ্গী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সামরিক শাখার প্রধান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বরখাস্ত মেজর জিয়াসহ আটজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা।

বৃহস্পতিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সংশ্লিস্ট প্রসিকিউশন শাখায় চার্জশিট দাখিল করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি)  দক্ষিণ বিভাগের সহকারী সুপার  ফজলুর রহমান।

প্রসিকিউশন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মাহমুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আইনের বিধি মোতাবেক মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারি চার্জশিট গ্রহণপূর্বক চার্জশিট মামলার নথিতে শামিলের আদেশ দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, আগামী ১৮ ডিসেম্বর এ মামলার ধার্য তারিখ। ওইদিন মামলায় পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষেত্রে আদেশ পাওয়া যাবে।

জানা গেছে, চার্জশিটের আসামিরা হলেন- সৈয়দ জিয়াউল হক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মেজর বলে কথিত সাংগঠনিক নাম সাগর ওরফে ইশতিয়াক ওরফে বড় ভাই, মইনুল হাসান শামীম সাংগঠনিক নাম সিফাত ওরফে সামির ওরফে ইমরান, আবদুস সবুর সাংগঠনিক নাম আ. সামাদ ওরফে সুজন ওরফে রাজু ওরফে স্বাদ, খাইরুল ইসলাম সাংগঠনিক নাম জামিল ওরফে রিফাত ওরফে ফাহিম ওরফে জিসান, মো. আবু সিদ্দিক সোহেল সাংগঠনিক নাম সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, মো. মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন সাংগঠনিক নাম শাহরিয়ার, মো. শেখ আব্দুল্লাহ সাংগঠনিক নাম জুবায়ের ওরফে জায়েদ ওরফে জাবেদ ওরফে আবু ওমায়ের, এবং আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব সাংগঠনিক নাম আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহ।

এদের মধ্যে মেজর জিয়াউল হক ও আকরাম হোসেন পলাতক। অন্যরা এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর  হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর থেকে কারাগারে।

আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বর্ণনায় বলা হয়েছে, দীপনকে হত্যার নির্দেশদাতা, মূল পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে ছিলেন পলাতক সৈয়দ জিয়াউল হক। সে আসামি খাইরুল, আবদুস সবুর ও মইনুলকে এ হত্যাকান্ডের আগে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন।

এদিকে, চার্জশিটে ১১ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এরা হলেন, আরাফাত রহমান, সেলিম ওরফে হাদী, আলম, আকাশ, তৈয়ব, জনি, আসাদ, হাসান, তালহা, শরিফুল ও তারেক। এদের মধ্যে প্রথম জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ না পাওয়ায় এবং অন্যদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। 

২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৩ টা থেকে পৌনে ৪টার মধ্যে মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে ঢুকে প্রকাশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের ছেলে দীপনকে কুপিয়ে হত্যা করে অফিসের অটোলক তালা লক করে চলে যায়। ঘটনার তিনদিন পর ২ নভেম্বর নিহতের স্ত্রী ডা. রাজিয়া রহমান শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।

প্রসঙ্গত, একই দিন কাছাকাছি সময়ে লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর কার্যালয়ে ঢুকে এর স্বত্বাধিকারী আহমেদুর রশীদ টুটুল, লেখক সুদীপ কুমার ওরফে রণদীপ বসু ও প্রকৌশলী আবদুর রহমানকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার চেষ্টা করে।



মন্তব্য