kalerkantho


৭ খুন মামলা: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে দুই বিচারপতির স্বাক্ষর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:৩৬



৭ খুন মামলা: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে দুই বিচারপতির স্বাক্ষর

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় লেখা সম্পন্ন হয়েছে। রায়টি প্রায় ৭শ ৭৪ পৃষ্ঠার বলে জানা গেছে। দুই বিচারপতি পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষরও করেছেন বলে জানা গেছে। এখন রায়টি যেকোনোদিন সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলাটিতে বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতবছর ২২ আগস্ট রায় দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মূল রায় লিখিছেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি। তবে কনিষ্ঠ বিচারপতিও বেশ কিছু অংশ লিখেছেন বলে জানা গেছে। তাদের রায় লেখা শেষে তা যাচাই-বাছাই করার পর তাতে উভয় বিচারপতি স্বাক্ষর করেন। এরপর তা সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এখন শাখা থেকে রায়টি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী হাইকোর্টের রায় প্রকাশের পর কারাবন্দি সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা আপিল বিভাগে আপিল করার সুযোগ পাবেন। তাদের রায়ের কপি প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। ইচ্ছা করলে রাষ্ট্রপক্ষও আপিল করতে পারবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত গতবছর ১৬ জানুয়ারি রায় ঘোষণা করে। রায়ে ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর ওইবছরের ২২ জানুয়ারি নিম্ন আদালত থেকে ডেথ রেফারেন্স তথা মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য পূর্ণাঙ্গ রায়সহ যাবতীয় নথি পাঠানো হয় হাইকোর্টে। পরে কারাবন্দি আসামিরা পর্যায়ক্রমে আপিল করেন। এ আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট গতবছর ২২ আগস্ট সংক্ষিপ্ত রায় দেন।

হাইকোর্টের রায়ে মামলার মূল আসামি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন, র‌্যাব-১১ এর সাবেক কর্মকর্তা তারেক সাঈদসহ ১৫ জনকে নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। আর ১১ জনকে নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডের সাজার পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া নিম্ন আদালতে ৯ জনকে দেওয়া বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ডের রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট। নিম্ন আদালত থেকে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য পাঠানো ডেথ রেফারেন্স ও কারাবন্দি আসামিপক্ষে করা আপিলের ওপর শুনানি শেষে এ রায় দেওয়া হয়। সশস্ত্র বাহিনী বা পুলিশের যেসব সদস্যরে সাজা হয়েছে তারা সকলেই র‌্যাব-১১-এর সাবেক সদস্য।

হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- র‌্যাব-১১-এর তৎকালীন অধিনায়ক লে. কর্নেল (বরখাস্ত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ (ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন মায়ার জামাতা), কম্পানি কমান্ডার মেজর (বরখাস্ত) আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার (বরখাস্ত) মাসুদ রানা (এম এম রানা), হাবিলদার এমদাদুল হক, আরওজি-১ আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হীরা মিয়া, ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহি আবু তৈয়ব, কনস্টেবল মো. শিহাব উদ্দিন, এসআই পূর্ণেন্দু বালা, সৈনিক আবদুল আলীম, সৈনিক মহিউদ্দিন মুন্সি, সৈনিক আল আমিন ও সৈনিক তাজুল ইসলাম এবং নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন। এদের মধ্যে নূর হোসেন ছাড়া বাকীরা সকলেই র‌্যাব-১১ এর সাবেক সদস্য।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- সৈনিক আসাদুজ্জামান নূর, সার্জেন্ট এনামুল কবীর এবং নূর হোসেনের সহযোগী মোর্তুজা জামান (চার্চিল), আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দীপু, রহম আলী, আবুল বাশার, সেলিম, সানাউল্লাহ ছানা, ম্যানেজার শাহজাহান ও জামাল উদ্দিন।

এ ছাড়া অন্য যে ৯ জনের সাজা বহাল রাখা হয় তারা হলেন- এএসআই আবুল কালাম আজাদ (অপহরণের দায়ে ১০ বছর), এএসআই বজলুর রহমান (সাক্ষ্য-প্রমাণ সরানোর দায়ে ৭ বছর), এএসআই কামাল হোসেন (অপহরণের দায়ে ১০ বছর), করপোরাল মোখলেছুর রহমান (অপহরণের দায়ে ১০ বছর), করপোরাল রুহুল আমিন (অপহরণের দায়ে ১০ বছর), হাবিলদার নাসির উদ্দিন (সাক্ষ্য-প্রমাণ সরানোর দায়ে ৭ বছর), কনস্টেবল বাবুল হাসান (অপহরণের দায়ে ১০ বছর), কনস্টেবল হাবিবুর রহমান (অপহরণের দায়ে ১০ বছর, সাক্ষ্য-প্রমাণ সরানোর দায়ে ৭ বছর) ও সৈনিক নুরুজ্জামান (অপহরণের দায়ে ১০ বছর)।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তখনকার কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম লিটন, তাজুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান স্বপন ও নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর এবং অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিমকে দিনদুপুরে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সে রাতেই তাদের শরীরে নেশাযুক্ত ইনজেকশন পুশ করে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে প্রতিটি লাশের পেট কেটে ইটভর্তি দুটি বস্তা শরীরে বেঁধে মেঘনার মোহনায় শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। তিনদিন পর লাশ ভেসে উঠলে জানা যায়, সেগুলো অপহৃত সাতজনের লাশ।

ওই ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় আলাদা দুটি হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ নূর হোসেন, তারেক সাঈদসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল আলাদা চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেয়। তবে দুই মামলার অভিযোগপত্রেই আসামি অভিন্ন। 



মন্তব্য