kalerkantho


জমি নিয়ে বিরোধ

মোস্তফা হত্যায় পাঁচ জনের যাবজ্জীবন

আদালত প্রতিবেদক   

১২ নভেম্বর, ২০১৮ ২২:০৪



মোস্তফা হত্যায় পাঁচ জনের যাবজ্জীবন

জমিজমা নিয়ে বিরোধের কারণে ঢাকার কেরাণীগঞ্জে মোস্তফা হত্যার অভিযোগে দুই পরিবারের পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহা. বজলুর রহমান মামলায় রায় ঘোষণা করেন। জামিনে থাকা আসামিরা এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এরা হলেন-একই এলাকার দুই সহোদর মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে শফিউদ্দিন ও শাহাব উদ্দিন, তাদের ভাই সালাউদ্দিনের ছেলে সুমন, তমিজউদ্দিনের ছেলে জসীম উদ্দিন ও অসিম উদ্দিন।

দণ্ডিতদের দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয়মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আসামিদের প্রত্যেককে দণ্ডবিধির ৩২৪ ধারায় অতিরিক্ত এক বছর করে কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরো ২ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর আসামিদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে আদালতসূত্র জানিয়েছে।

বাদী পক্ষের আইনজীবী মঞ্জুরুল আলম জানান, মামলাটিতে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়ে যুক্তিতর্কের পর্যায়ে ২০১৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রাজনৈতিক মামলা হিসেবে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আসে।

পরে ঢাকা জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য মন্ত্রণালয়ের আদেশসহ আদালতে দাখিল করে। কিন্তু বাদীপক্ষের নারাজী আবেদনের কারণে আদালত সরকারের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নামঞ্জুর করেন। আসামিরা ওই বিষয়ে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে গেলেও বিচারিক আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল থাকার কারণে পরবর্তীতে ফের মামলার বিচার শুরু হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর কেরাণীগঞ্জ থানায় মামলা করেন নিহত মোস্তফার স্ত্রী সাজেদা খাতুন। তদন্ত শেষে ২০০৬ সালের ১৯ অক্টোবর  পুলিশের অপরাধ ও তথ্য বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক আবুল হাশেম ৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। অপর আসামি এনায়েত হোসেনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

চার্জশিটে বলা হয়, ২০০৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টায় ঢাকার কেরাণীগঞ্জ থানার জয়নগরস্থ নিজ বাড়ি থেকে বাজারে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হন মোস্তফা এবং তার দুই শ্যালক হায়দার আলী ও রবি হোসেন। এ সময় আসামিরা তাদের হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা, লোহার রড, চাপাতি ও ইট দিয়ে হামলা করে গুরুতর আহত করে। মোস্তফাকে প্রথমে মিটফোর্ড হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ওইদিনই রাত পৌনে ৯টায় মারা যান। ওই ঘটনায় তার দুই শ্যালক হায়দার আলী ও রবি হোসেনও গুরুতর আহত হন।

প্রসঙ্গত, এ মামলার চার্জাশটভুক্ত আসামি সালাউদ্দিন বিচার চলাকালীন সময়ে মারা গেছেন। 



মন্তব্য