kalerkantho


নাইকো দুর্নীতি মামলায় খালেদার বিচার কারাগারেই

আদালত প্রতিবেদক   

৮ নভেম্বর, ২০১৮ ১৬:০৫



নাইকো দুর্নীতি মামলায় খালেদার বিচার কারাগারেই

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ অন্যদের বিরুদ্ধে চলমান নাইকো দুর্নীতির মামলায় কারাগারের ভেতরে বানানো অস্থায়ী এজলাসে বিচার শুরু হয়েছে। 

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বুধবার সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ পুরান ঢাকায় পরিত্যক্তঘোষিত কারাগারের ভেতরে অবস্থিত প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষকে আদালতের অস্থায়ী এজলাস হিসাবে ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। 

গেজেটে বলা হয়, 'ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৯' এ বিচারধীন বিশেষ মামলা নম্বর ১৬/২০০৮, যাহা তেজগাঁও থানার মামলা নম্বর ২০(১২)০৭, এর বিচার কার্যক্রম ঢাকা মহানগরের বকশিবাজার এলাকায় সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারসংলগ্ন মাঠে নির্মিত অস্থায়ী আদালত ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। বর্ণিত মামলার বিচার কার্যক্রম চলাকালীন এলাকাটি জনাকীর্ণ থাকে বিধায় নিরাপত্তাজনিত কারণে এ মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ঢাকা মহানগরের ১২৫ নাজিমুদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এর প্রশাসনিক ভবনের কক্ষ নম্বর ৭ -কে অস্থায়ী আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হলো।

ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে মামলার বিচার কার্যক্রম অভিযোগ গঠন শুনানি চলছে।  প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক মাহমুদুল কবীর এ এজলাসে বসেন। চলতি বছরের গত ৩ সেপ্টেম্বর মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি শুরু হয়। দুর্নীতির এক মামলায় দন্ডিত হয়ে খালেদা কারাবন্দি আছেন মর্মে তার আইনজীবীরা আদালতকে জানানোর পর ওই দিন বিচারক মামলার শুনানিতে খালেদাকে হাজির করার নির্দেশ দেন।

এর প্রেক্ষিতে গত ৬ অক্টোবর থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএম) চিকিৎসাধীন মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়াকে আজ বেলা ১১টা ৩৭ মিনিটে কারাগারে আনা হয়। বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখন অনেকটাই স্থিতিশীল। তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

শুনানি উপলক্ষে জামিনে থাকা অন্যতম আসামি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদসহ অন্যরা ঘণ্টাখানেক আগেই এজলাসে হাজির হন। এদিকে দণ্ডিত হয়ে কারাবন্দি কাশিমপুর কারাগার থেকে নিয়ে আসা হয়েছে গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে। 

এখানে প্রথম দিনে অভিযোগ গঠনের শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নিজেই। ঘণ্টাব্যাপী শুনানি শেষে কার্যক্রম মুলতবি করেন বিচারক। আগামী ১৪ নভেম্বর শুনানির পরবর্তী তারিখ ধার্য করে এজলাস ছাড়েন। 

দুদকের পক্ষে মামলার আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল জানান, আজকে পর্যন্ত এ মামলার সকল আসামির পক্ষে অব্যাহতির আবেদন শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট একমাত্র বেগম জিয়ার অংশটুকু। পরবর্তী তারিখে তার পক্ষে শুনানি।

কানাডার কম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুলপরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন।

তদন্ত শেষে বেগম জিয়া, ব্যারিস্টার মওদুদসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম সাহেদুর রহমান। অভিযোগপত্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। 

চার্জশিটের অন্য আসামিরা হলেন সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

খালেদা জিয়া চার্জশিটের বৈধতা চ্যলেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে ২০০৮ সালের ৯ জুলাই হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করে। হাইকোর্টে ২০১৫ সালের ১৮ জুন ওই রুলের ওপর শুনানি শেষে খারিজ করে স্থাগিতাদেশ প্রত্যাহার করে। 
একই সঙ্গে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে ওই বছরের ২৯ নভেম্বর খালেদা জিয়া এ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। 

এরপর সুপ্রিম কোর্টে খালেদা হাইকোর্টের ওই রুল খারিজ করে দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন। আপিল বিভাগ ২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর শুনানি শেষে খালেদার আবেদন খারিজ করে বিচারিক আদালতকে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। 

২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট রিট পিটিশনের ( পিটিশন নম্বর : ৫৬৭৩) রায় দেয় যে, রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ, এফবিআই এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সমস্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, ২০০৩-০৬ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রিত্বকালীন নাইকোর কাছ থেকে বড় ধরনের ঘুষ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছিল অনৈতিকভাবে তাদের সুবিধা দেওয়ার নামে।

ওই আদেশের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, নাইকো একেবারে নির্লজ্জভাবে ঘুষ দিয়েছিল। নাইকোর এজেন্ট কাশিম শরীফকে ৪ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিল এবং ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূইয়ার মাধ্যমে পাঁচ লাখ ডলার দিয়েছিল।

এ সব তথ্যপ্রমাণ রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করে। এ তথ্য প্রমাণ করে, নাইকো তাদের বাংলাদেশি এজেন্টদের সুইস ব্যাংকের মাধ্যমে প্রথমে বার্বাডোজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কাশিম শরিফ এবং সেলিম ভূইয়ার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকাগুলো দেন। পরে ওই টাকা চলে যায় তারেকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের অ্যাকাউন্টে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর এ এজলাসে বসেই গত ২৯ অক্টোবর ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ মো. আকতারুজ্জামান জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদাকে ৭ বছরের সশ্রম  কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে রায় ঘোষণা করেন। 



মন্তব্য

jalilujjal commented 12 days ago
We don't think about the reality & after math of DEATH. often I think; Who are exercising The gifted POWER given by The ALMIGHTY ALLAH JALLA JALALUHU for which purpose. DO they have the appropriate answer to say in front of ALLAHU ALAM. SO far I know every single person except Non Believer fear Aj Ra El. because we should answer to Lord where own self will not is own. So, what will be of those who cross the limitation. May ALLAH Save US.