kalerkantho


জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদার আবেদন হাইকোর্টে খারিজ

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই বিচার চলবে

* আইনজীবীদের ত্রুটি: কুমিল্লার মামলায় নতুন করে জামিন আবেদন করতে হবে। * জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় শুনানি অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ অক্টোবর, ২০১৮ ২০:২৪



খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই বিচার চলবে

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে কারাভ্যন্তরে বসানো আদালতেই খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার চলতে বাধা নেই।

এদিকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা কুমিল্লার এক মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য নতুন করে আবেদন করতে বলা হয়েছে। আগের করা আবেদন বিধি সম্মত না হওয়ায় নতুন করতে আবেদন দিতে বলেছেন আদালত। এ অবস্থায় আগামীকাল সোমবার নতুন আবেদন করতে পারেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এ ছাড়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার আপিলের ওপর শুনানি অব্যাহত রয়েছে। কাল আবার শুনানি হবে। 

 

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া আদালতে না আসায় তার অনুপস্থিতিতে কারাভ্যন্তরে বিচার চলার পক্ষে বিশেষ জজ আদালত আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রবিবার এই আদেশ দেন।

আদালতে খালেদার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

গত ৫ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া বিশেষ জজ আদালতে হাজির হয়ে বলেন, বারবার আদালতে আসতে পারবেন না। এরপর কয়েকটি ধার্য তারিখে তিনি উপস্থিত হননি। এ অবস্থায় গত ২০ সেপ্টেম্বর বিশেষ জজ আদালত খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই বিচার চলার পক্ষে আদেশ দেন। আদালত খালেদা জিয়াকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়ে এ আদেশ দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে গত ২৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। গত ১০ অক্টোবর এ আবদেনের ওপর শুনানি সম্পন্ন হয়। আজ ওই আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। ফলে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার চলতে বাধা নেই। 

গত ৪ সেপ্টেম্বর আইন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারের একটি কক্ষকে আদালত হিসেবে ঘোষণা করে। এর পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর সেখানে আদালত বসে। এরও আগে মামলাটির বিচার চলছিল ঢাকার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে।

অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার অপর আসামিরা হলেন-হারিছ চৌধুরী, জিয়াউল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম খান। এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।


কুমিল্লার বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় জামিন আবেদন

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আইকন পরিবহনের বাসে বোমা নিক্ষেপ করে আগুন দিয়ে ৮ জনকে হত্যার অভিযোগে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লায় দুটি মামলা (একটি হত্যা মামলা ও একটি বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা) করা হয়। এরমধ্যে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার আদালত খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করেন। এই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। কুমিল্লার আদালতের আদেশের অনুলিপি ছাড়াই এ আবেদন করা হয়। পরবর্তীতে আদেশের কপি পাওয়ার পর তা সম্পূরক আবেদন আকারে আদালতে দাখিল করা হয়।

এ অবস্থায় বিচারপতি একে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মজিুবর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হয়। আজ শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আইন অনুযায়ী জামিন আবেদনের সঙ্গে নিম্ন আদালতের আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি থাকতে হবে। এখানে তা নেই। নিম্ন আদালতের আদেশের কপি সম্পূরক আবদনে দিলে সেটা আইনানুগ হবে না। এরপর আদালত খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের নতুন করে আবেদন দিতে বলেন। 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় শুনানি অব্যাহত

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আপিলের শুনানি চলছে।

আজ রবিবার খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। শুনানি অসমাপ্ত থাকায় আগামীকাল সোমবার আবার শুনানি হবে।



মন্তব্য