kalerkantho


খালেদা জিয়া পাবেন পছন্দের চিকিৎসক

বিএসএমএমইউ হাসপাতালে দ্রুত ভর্তির নির্দেশ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ অক্টোবর, ২০১৮ ১৫:০৮



খালেদা জিয়া পাবেন পছন্দের চিকিৎসক

ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অনতিবিলম্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎস শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তাঁর চিকিৎসার জন্য ওই হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক আবদুল জলিল চৌধুরী ও ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বদরুন্নেছা আহমেদকে রেখে নতুন করে পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করতে বলা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সমর্থক স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এবং বিএনপি সমর্থক ডক্টরস অ্যাসোসিয়শন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কোনো কমিটির সদস্য নন, এমন তিনজনকে এই বোর্ডের সদস্য করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া প্রয়োজন হলে এই বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউ হাসপাতালের বাইরের পছন্দমতো কোনো চিকিৎসক দেখাতে পারবেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার ওই আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়েছে, ওই মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়া তাঁর পছন্দমতো ফিজিওথেরাপিস্ট, গাইনোকোলজিস্ট ও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট নিতে পারবেন। এই আদেশ দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার, কারা কর্তৃপক্ষ ও বিএসএমএমইউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার চিকিৎসর ক্ষেত্রে তাঁর মর্যাদার দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। আদালত বলেছেন, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মর্যাদা ও সম্মান অক্ষুণ্ন রেখেই তাঁকে মানসম্মত চিকিৎসা দিতে হবে।

ইউনাইটেড বা অ্যাপোলোর মতো বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎস নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে খালেদা জিয়ার পক্ষে করা এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ওই আদেশ দেন আদালত। আদালতের আদেশে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর রিট আবেদনটি করা হয়েছিল।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আদালতে উপস্থিত থেকে আদেশ শুনেছি। তাতে মনে হয় না এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রয়োজন হবে। তবে আদালতের লিখিত আদেশ পেলে দেখব। সেখানে যদি এমন কিছু থাকে যার বিরুদ্ধে আপিল করার প্রয়োজন হবে, তখন বিষয়টি দেখা যাবে।’

খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, আদালত অনতিবিলম্বে খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎস শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সেখানে বোর্ডের অনুমতি নিয়ে পছন্দমতো চিকিৎসক দেখাতে পারবেন বলে আদালত আদেশ দিয়েছেন।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘আজ আদালত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন, যা এত দিন সরকার ভূলণ্ঠিত করেছিল।’

গতকাল দুপুরে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে আদালত আদেশ দেন। ওই সময় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ ও মোখলেসুর রহমান। আর খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জয়নুল আবেদীন, সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, আমিনুল ইসলাম, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার মীর হেলালউদ্দিন, গাজী কামরুল ইসলাম সজল, ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান, সালমা সুলতানা সোমা প্রমুখ।

আদালত মূল নির্দেশনার আগে কিছু পর্যবেক্ষণ দেন। তাতে বলা হয়, এটা সত্য যে খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনি ইউনাইটেড বা অ্যাপোলোর মতো বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। তিনি পছন্দমতো চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা নিতে চান। তিনি ৭৩ বছর বয়স্ক একজন অসুস্থ নারী। তাই তাঁর পছন্দ অনুযায়ী চিকিৎসর সুবিধা দেওয়া বিবেচনার দাবি রাখে। তবে বাস্তবতা হলো তিনি যেহেতু সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দি, তাই এখন কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব তাঁর চিকিৎসর ব্যবস্থা করা। তাই আইনগতভাবে তাঁকে সরকার বা কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানেই চিকিৎসা নিতে হবে।

পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয়, সরকার তাঁর চিকিৎসর জন্য বিএসএমইউ হাসপাতালের পাঁচজন চিকিৎসক নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে। এই মেডিক্যাল বোর্ডের তিনজন সদস্যের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেছেন যে তাঁরা স্বাচিপের নেতা। তাঁদের মাধ্যমে সঠিক চিকিৎস পাবেন না বলে তাঁদের সন্দেহ। তবে অন্য দুজনের বিরুদ্ধে তাঁদের কোনো অভিযোগ নেই। আদালত বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে একজন চিকিৎসক তিনি যে দলেরই সমর্থক হন না কেন, যখন তিনি চিকিৎসা দেন তখন তাঁর দলীয় চিন্তা থাকে না। একজন রোগীকে রোগী হিসেবেই চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। তার পরও যেহেতু অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাই তাঁদের বাদ দিয়েই মেডিক্যাল বোর্ড গঠন যুক্তিসংগত। কারণ চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের ওপর যদি আস্থা না থাকে তাহলে তা বিবেচনার দাবি রাখে।’ ওই সময় আদালত খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনার কাছে যখন আওয়ামী লীগ সমর্থকরা আসেন, আপনি কি তখন তাঁদের দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেন?’

আদালত আরো বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের দেশের চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলীসহ সব পেশাজীবী আজ প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলে বিভক্ত। কেউ আওয়ামী লীগ সমর্থক আবার কেউ বিএনপি সমর্থক। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্বাচিপ বা ড্যাবের সদস্য এমন চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎস করানো হলে প্রশ্ন উঠতেই পারে। তবে আমরা বিশ্বাস করি যে পেশাদারির ক্ষেত্রে বা পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁরা এসব রাজনৈতিক বিভক্তির ঊর্ধ্বে থাকেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় পেশার নীতিই অনুসরণ করেন।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আবার শুনানি রবিবার : এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালাস চেয়ে করা আপিলের ওপর খালেদা জিয়ার পক্ষে গতকাল শুনানি করেছেন এ জে মোহাম্মদ আলী। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি চলছে। শুনানি অসমাপ্ত থাকায় আদালত আগামী রবিবার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।



মন্তব্য