kalerkantho


প্রতিক্রিয়া

মুক্ত সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এক ভয়ংকর বাধা

সৈয়দ আবুল মকসুদ, সাংবাদিক বুদ্ধিজীবী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১১:১৫



মুক্ত সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এক ভয়ংকর বাধা

বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি মানুষের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি করেছে। শুধু যে মুক্ত সাংবাদিকতার জন্যই আইনটি একটি খড়্গ তাই নয়, একাডেমিক গবেষণার ক্ষেত্রেও এই আইন বিঘ্ন সৃষ্টি করবে। সভ্যতা এগিয়ে গেছে, প্রচলিত ধারণাকে সমালোচনা করেই। যেকোনো বিষয়ে ভিন্নমত থাকতেই পারে। সভ্য সমাজ ভিন্নমত প্রকাশের অধিকারই শুধু দেয় না, প্রকাশের অনুকূল পরিবেশও তৈরি করে দেয়। ইতিহাস হোক, রাজনীতি হোক, ধর্মীয় বিষয় হোক, যুক্তিযুক্ত মতবাদ প্রকাশের অধিকার প্রত্যেক মানুষের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার। এই আইনটি স্বাধীন গবেষণার ক্ষেত্রে, মুক্ত সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এক ভয়ংকর বাধা। এই আইন পাস করার আগেই সম্পাদক পরিষদ ও নাগরিক সমাজের যে অভিমত নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর প্রতি সম্মান দেখালে সরকারের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হতো। বিভিন্ন দিক থেকে এই আইনটি সম্পর্কে যে আপত্তি উঠেছিল, সেগুলোও মূল্যায়ন করা উচিত ছিল। কারণ সরকার বা শুধু দেশ নয়, সমস্ত জনগণের সব শ্রেণির ইচ্ছারও মূল্য রয়েছে।

এই আইনটি যদি সব মানুষের অভিমতের পরিপ্রেক্ষিতে আরো নমনীয় করা যেত তা হলে এই আইনের গুরুত্ব বাড়ত। এখন মনে হবে যে এই আইনটি সরকারের সমালোচনাকারীদের অথবা ভিন্নমত পোষণকারীদের কণ্ঠরোধ করার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। অতীতে দেখা গেছে যে সরকারই নিবর্তনমূলক আইন করেছে একসময় সেই আইন তাদের জীবনকেই দুর্বিষহ করে তুলেছে। এই আইন এতটাই শক্ত এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এতটাই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যে এই আইনের অপপ্রয়োগ হওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি। আমাদের দেশের যে সংস্কৃতি তাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের বিবেক দ্বারা পরিচালিত হওয়ার কথা ভাবাই যায় না। সুতরাং এই আইনটি প্রয়োগের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা বাঞ্ছনীয়। 



মন্তব্য