kalerkantho


চাকরিতে কোটা পদ্ধতি

অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ আগস্ট, ২০১৮ ০১:২২



অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে

সরকারি ও আধা সরকারি চাকরিতে প্রচলিত কোটা পদ্ধতি নিয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার মতামত দিয়েছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অ্যাটর্নি জেনারেলের লিখিত মতামত গতকাল সোমবার বিকেলে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করেছেন। সেখানে শতকরা ৩০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণে সুপ্রিম কোর্টের পৃথক দুটি রায়ের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল তার অভিমত দিয়েছেন।  

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, আমার মতামত মন্ত্রণালয় থেকে এসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে তাতে তিনি কি বলেছেন সে বিষয়ে কোনো অভিমত দিতে রাজি নন। 

সরকারি চাকরিতে বর্তমানে শতকরা ৩০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা কোটা রয়েছে। এ ছাড়াও জেলা কোটা, পোষ্য কোটা, নারী কোটা, উপজাতি কোটা পদ্ধতি চালু রয়েছে। এই কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছে। 
আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে তাদের দাবি মেনে গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারের প্রতি আল্টিমেটাম দিয়েছে তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার গত ২ জুলাই কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে। এই কমিটিই কোটা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিষয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেলের অভিমত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর গত সপ্তাহে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে এই চিঠি পাঠানো হয়। এই চিঠি পাবার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মুক্তিযোদ্ধা কোটা বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দুটি রায় পর্যালোচনা করেন। এরপর তার মতামতের একটি খসড়া তৈরি করা হয়। গতকাল এই খসড়া চূড়ান্ত করার পর বিকেলে তা সংগ্রহ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল। 

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, খাদ্য অধিদপ্তরে খাদ্য পরিদর্শক, উপ-পরিদর্শক ও সহকারী পরিদর্শক পদে চাকরির ক্ষেত্রে শতকরা ৩০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা কোটা অনুসরণ না করে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে অন্যদের চাকরি দেওয়ায় ২০১০ সালে গাজী মো. শফিকুলসহ সাতজন চাকরিপ্রার্থী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এ রিট আবেদনে হাইকোর্ট ওই বছরই রুল জারি করেন। এই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রায়ে দেন হাইকোর্ট। রায়ে রিট আবেদনকারীদের চাকরি দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। 

রায়ে বলা হয়, সরকারের সকল চাকরিতে অবশ্যই মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণ করতে হবে। যদি পূরণ করা সম্ভব না হয় তবে পদ শুণ্য রাখতে হবে। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল আবেদন দাখিল করে। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন নিষ্পত্তি করে ২০১৪ সালের ২৪ এপ্রিল রায় দেন। রায়ে বলা হয়, ওই নিয়োগের ক্ষেত্রে যদি ৩০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা কোটা অনুসরণ করা না হয়ে থাকে তবে হাইকোর্টের রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অবিলম্বে রিট আবেদনকারীদের নিয়োগ দিতে হবে। এ ছাড়া চাকরিতে সরকারের আইন অনুযায়ী ৩০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণ করতে হবে।

এদিকে চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়স বাড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে ২০১২ সালে রিট আবেদন করেন খাদ্য অধিপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) মো. জামাল উদ্দিন শিকদার। এ রিট আবেদন আদালত রুল জারি করেন। এ রুলের ওপর শুনানি শেষে ২০১২ সালের ৫ ডিসেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। এ রায়েও মুক্তিযোদ্ধা পোষ্যদের ক্ষেত্রে শতকরা ৩০ ভাগ কোটা সংরক্ষণ করতে বলা হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি চেয়ে লিভ টু আপিল আবেদন করে সরকার। এ আবেদনের ওপর  শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ২০১৫ সালের ৩১ আগস্ট রায় দেন। এই রায়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণ করতে বলা হয়। তবে কোটা পুরণ না হলে অপুরণীয় অংশ শূন্য রাখার বিষয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায় বাতিল করা হয়।

উল্লেখ্য, এই শুনানিতে আপিল বিভাগে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছিলেন চাকরিতে শতকরা ৩০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা কোটা অনুসরণ করা হচ্ছে। এই রায়েও আগের রায়ের কথা (গাজী মো. শফিকুলের রিট আবেদনে দেওয়া রায়) উল্লেখ করা হয়।



মন্তব্য