kalerkantho


আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের চিকিৎসা

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক    

১৩ আগস্ট, ২০১৮ ১৮:২২



হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ

দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন অকার্যকর হয়ে যাওয়ায় ওই আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করেছে আপিল বিভাগ। আজ সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। 

আদালতে এদিন রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন আইনজীবী ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অপরদিকে শহিদুল আলমের পক্ষে ছিলেন ব্যারিষ্টার সারাহ হোসেন।   

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, হাইকোর্টের আদেশ ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়ে গেছে। তাই এই আবেদনের আর কার্যকারিতা নেই।

এরপর ব্যারিষ্টার সারাহ হোসেন বলেন, শহিদুল আলমের ওপর নির্যাতন হয়েছে কী না তা পরীক্ষা করতে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করার কথা। কিন্তু এ আদেশ বাস্তবায়ন করেনি। 

এ সময় আদালত বলেন, বাস্তবায়ন হয়েছে কী না সেটা দেখবে হাইকোর্ট। এটা আমাদের বিষয় নয়। জবাবে ব্যারিষ্টার সারাহ হোসেন বলেন, এটা দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তাই বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলো।

এরপর আদালত বলেন, আপনারা ইচ্ছা করলে বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনতে পারেন। এরপর আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করেন।

প্রসঙ্গত, গত ৫ আগষ্ট রাতে ধানমন্ডির বাসা থেকে ড. শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় তার বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা করে পুলিশ। এই মামলায় ৬ আগষ্ট তাকে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এই অবস্থায় ওই রিমান্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশনা চেয়ে ৭ আগষ্ট রিট আবেদন করেন শহিদুল আলমের স্ত্রী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক রেহনুমা আহমেদ। ওই দিনই হাইকোর্ট এক আদেশে শহিদুল আলমকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট গত ৯ আগষ্ট পৃথক এক আদেশে শহিদুল আলমের ওপর মানষিক নির্যাতন হয়েছে কী না তা পরীক্ষা করে ঢাকা মহানগর ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন দিতে স্বরাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দেন। 

উল্লেখ্য, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাক্ষাতকার দেন ড. শহিদুল আলম। সেখানে বিনাবিচারে মানুষ হত্যা, জাতীয় সংসদ নির্বাচন, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরতদের বিষয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দেন। একইসঙ্গে গত ৪ ও ৫ আগষ্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লাইভে বক্তব্য দেন। এরই প্রেক্ষাপটে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 



মন্তব্য