kalerkantho


জবানবন্দিতে জাবালে নূর বাসের মালিক

লাইসেন্স না দেখে চালক নেওয়ায় আমিও দায়ী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ আগস্ট, ২০১৮ ১২:১৫



লাইসেন্স না দেখে চালক নেওয়ায় আমিও দায়ী

ঘাতক জাবালে নুরের মালিক শাহাদত হোসেন

‘বাস মালিক সমিতির নেতাদের অনুরোধে মাসুম বিল্লাহকে চালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলাম। তার লাইসেন্স যাচাই করে দেখিনি। এটা আমার ভুল ছিল।’ রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপা দিয়ে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবহন জাবালে নুরের মালিক শাহাদত হোসেন স্বীকারোক্তিতে এ কথা বলেছেন।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গতকাল বৃহস্পতিবার স্বীকারোক্তি দেন শাহাদত। এর আগে ১ আগস্ট তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাঁকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। গতকাল রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম শাহাদতকে আদালতে হাজির করেন। একই সঙ্গে তাঁর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার জন্য আবেদন জানান।

চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান হিরো আসামির জবানবন্দি নেওয়ার জন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম নবীকে দায়িত্ব দেন। তিনি আসামিকে পর্যাপ্ত সময় দিয়ে নিজের খাস কামরায় জবানবন্দি নেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, স্বীকারোক্তিতে শাহাদত বলেছেন যে দুই শিক্ষার্থীকে চাপা দিয়ে হত্যার ঘটনার পর তিনি জানতে পারেন যে ওই বাসের চালক মাসুম বিল্লাহর বাস চালানোর লাইসেন্স ছিল না। তার লাইসেন্স ছিল হালকা গাড়ি চালানোর। শাহাদত হোসেন বলেন, ‘নিজের গাড়ির চালক নিয়োগ দেওয়ার আগে তার কাগজপত্র পরীক্ষা করা উচিত ছিল। মালিক হিসেবে দায়িত্বও ছিল। কিন্তু দায়িত্বে অবহেলা করে চালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সে কারণে দুর্ঘটনার জন্য আমি নিজেও দায়ী।’ জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আসামি শাহাদত হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন আদালত।

এর আগে জাবালে নূরের চালক মাসুম বিল্লাহ এর আগে গত বুধবার একই আদালতে জবানবন্দি দেয়। সে বলে, ‘বেশি যাত্রী পেতে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে বাসে ওঠার জন্য অপেক্ষমাণ ছাত্র-ছাত্রীদের গায়ের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দিয়েছিলাম। এটি ছিল ইচ্ছাকৃত।’

জাবালে নূর পরিবহনের অন্য দুটি বাসের দুই চালক ও দুই হেলপারকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। গত ৬ আগস্ট তাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

গত ২৯ জুলাই কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের তিনটি বাসের রেষারেষিতে একটি বাস শিক্ষার্থীদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দিয়া খানম মীম ও আব্দুল করিম রাজীব নামে দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। আহত হয় ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় নিহত মীমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। 



মন্তব্য