kalerkantho


বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত

ঘাতক বাসের মালিকের দায় স্বীকার

আদালত প্রতিবেদক   

৯ আগস্ট, ২০১৮ ২৩:৪৯



ঘাতক বাসের মালিকের দায় স্বীকার

পরিবহন প্রতিষ্ঠান জাবালে নূরের সভাপতি, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ডিএমডির অনুরোধে ঘাতক চালক মাসুম বিল্লাহর ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই-বাছাই ছাড়াই নিয়োগ দেন। বাস নিয়ন্ত্রণে অনুপযুক্ত চালক বেপরোয়া গতিতে চালানোর ফলেই ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৯২৯৭ নম্বর বাসের মালিক শাহাদাত হোসেন। 

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম গোলাম নবীর খাসকামরায় ফৌজদারি আইনের ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।  

এর আগে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম। রিমান্ড ফেরত সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে বলেন, আসামি তার ভুল স্বীকার করে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দিতে সম্মত আছে। যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। 

ওই আসামি জবানবন্দি দেওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার পক্ষে কোন জামিনের আবেদন ছিল না বলে প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে। 

আসামিকে গ্রেপ্তারের পর গত ২ আগস্ট শাহাদত হোসেনকে আদালতে হাজির করে দশ দিন রিমান্ড চাইলে ৭ দিন মঞ্জুর করা হয়। 

প্রসঙ্গত, বুধবার লাইসেন্স বিহীন বেপরোয়া ওই ঘাতক বাস চালক মাসুম বিল্লাহ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ছাত্রছাত্রীরা রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকায় ইচ্ছা করেই তাদের উপর বাস উঠিয়ে দেয় বলে জানিয়েছে। 

এ ছাড়া, পাল্লা দেওয়া একই পরিবহনের দুই বাসচালক জোবায়ের ও সোহাগ আলী এবং চালকের সহকারী এনায়েত হোসেন ও রিপন হোসেনকে গত ৬ আগস্ট ৭ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। 

গত ২৯ জুলাই দুপুরে ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী কালশী ফ্লাইওভার থেকে নামার মুখে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিলেন। জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় মুখেই দাঁড়িয়ে যায়। এ সময় পেছন থেকে আরেকটি দ্রুত গতির বাস ওভারটেক করে সামনে আসতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অপেক্ষমান শিক্ষার্থীদের ওপর নিমিষেই ওঠে পড়ে। 

চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজীব মারা যায়। গুরুতর আহত হয়ে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী হাসপাতালে এখনও কাতরাচ্ছেন। ওই ঘটনায় রাতে ক্যান্টনমেন্ট থানায় এ মামলা করেন নিহত মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম। 



মন্তব্য