kalerkantho


চুয়াডাঙ্গায় ২০ জনের ‘চোখ হারানো’

ওষুধ সরবরাহকারী কম্পানির বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক    

২০ জুলাই, ২০১৮ ০৩:১৮



ওষুধ সরবরাহকারী কম্পানির বিরুদ্ধে মামলা

চুয়াডাঙ্গায় বেসরকারি হাসপাতালে গত মার্চে অস্ত্রোপচারের পর ২০ জনের ‘চোখ হারানো’র ঘটনায় ওষুধ সরবরাহকারী আইরিশ কম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। ওই ব্যক্তিদের চোখে ব্যবহৃত ওষুধ নিবন্ধনবিহীন ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষ মামলা করার বিষয়টি জানায়। আদালত বিষয়টির শুনানি আগামী ২৬ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করেছেন।

চোখ হারানোর বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুই দফা তদন্ত করে। গত ১৩ মে দেওয়া প্রথম তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ছানি অপারেশন ও জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় ত্রুটির কারণেই রোগীদের একটি করে চোখ নষ্ট হয়েছে। এ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, অপারেশন প্রক্রিয়ায় বা অপারেশনের যন্ত্রপাতি বা প্রাসঙ্গিক অন্যান্য দ্রব্যের জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়ার ত্রুটির কারণে ছানি অপারেশনকৃত চোখে জীবাণুর সংক্রমণ হয়েছে। ব্যবহূত রাসায়নিকের মধ্যে Auroblue, Aurolens, Eye Drape (c&p) ও Maxitex (Hand Gloves) ওষুধ প্রশাসনের নিবন্ধনভুক্ত নয় বলে ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টার কর্তৃপক্ষ ও ওষুধ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যে প্রতীয়মান। এখন পর্যন্ত এগুলোর নিবন্ধন দেওয়া সম্ভব হয়নি।

এর ঠিক দুই মাস পর গত ১৫ জুলাই দেওয়া দ্বিতীয় প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ভূয়সী প্রসংশা করে বলা হয়েছে, রোগীর চোখে সংক্রমণ হয়, যা অনিচ্ছাকৃত ও দুর্ঘটনাজনিত। এ ক্ষেত্রে হাসপাতালের কোনো অবহেলা পরিলক্ষিত হয়নি। 

‘চোখ হারানো’ প্রত্যেককে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রশ্নে জারি করা রুলের শুনানিতে মন্ত্রণালয়ের দেওয়া দুটি প্রতিবেদনে গরমিল দেখে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেন। 

‘চক্ষুশিবিরে গিয়ে চোখ হারালেন ২০ জন!’ শিরোনামে গত ২৯ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত। এরপর হাইকোর্ট গত ১ এপ্রিল রুল জারি করেন। 



মন্তব্য