kalerkantho


জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলা

রবিবারের মধ্যে সম্পুরক পেপারবুক তৈরির নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জুলাই, ২০১৮ ২০:৫৩



রবিবারের মধ্যে সম্পুরক পেপারবুক তৈরির নির্দেশ

জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট দুর্নীতি মামলায় সম্পুরক পেপারবুক তৈরি করার জন্য খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আবেদন আংশিক মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। আগামী রবিবারের মধ্যে এই পেপারবুক তৈরি করে আদালতে দাখিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। 

এর আগে পেপারবুকে কি কি ডকুমেন্ডস নেই সে বিষয়ে দুদকের আইনজীবীর বক্তব্য শোনেন আদালত। তার দেওয়া প্রতিবেদনে কিছু ডকুমেন্ডস না থাকার কথা স্বীকার করে নেওয়ায় আদালত সম্পুরক পেপারবুক তৈরির নির্দেশ দেন। 

জানা গেছে, আদালতের আদেশের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, আমাদের আবেদনই সত্য। পেপারবুকে সব ডকুমেন্টস দেয়নি। 

অপরদিকে দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান বলেন, এই ভুল ইচ্ছাকৃত নয়। এর মধ্যে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই। এ কথা বিপরীতে আদালত বলেন, আবেদনের সত্যতা থাকার কারণেইতো আংশিক মঞ্জুর করা হলো।  

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গতকাল এই মামলার আপিলের শুনানি শুরু করার আগে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী আগামী রবিবার পর্যন্ত সময় চান। তিনি বলেন, আদালত সম্পুরক পেপারবুক তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। এ কারণে এটা প্রমাণিত যে অসম্পুরক পেপারবুক দিয়েই তড়িঘড়ি করে মামলার শুনানি শুরু করা হয়েছে। যেটা ন্যায়-বিচারের পরিপন্থী। 

তিনি বলেন, বিচারের সতসিদ্ধ নীতি হলো শুধুই বিচার করলে হবে না দেখাতে হবে যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা শুধুমাত্র একটি মামলায় (খালেদা জিয়ার মামলা) এই নীতি জলাঞ্জলি দেবে না এই আদালত। 

জবাবে আদালত বলেন, পেপারবুকে সব ডকুমেন্টস থাকতে হবে-এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। তবে আপিল বিভাগের নির্দেশ অনুযায়ী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এই মামলা নিষ্পত্তির জন্য আমাদের ওপর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আপনারতো আপিল বিভাগের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদন মূলতবি রাখা হয়েছে। এর অর্থ আগের আদেশ বহাল রয়েছে। তাই সময় দেওয়া যাচ্ছে না। আপনারা শুনানি করতে থাকুন। রবিবারের মধ্যে সব পেয়ে যাবেন। তা যদি না পান তবে যা হবার তাই হবে। এরপর খালেদা জিয়ার পক্ষে আবদুর রেজাক খান শুনানি শুরু করেন। 

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট দুর্নীতি মামলায় বিচার শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রায় দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। রায়ে খালেদা জিয়াকে ৫ বছর এবং কাজী সালিমুল হক ও শরফুদ্দিন আহমেদকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে তারা পৃথকভাবে আপিল করেন। অপরদিকে খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করে দুদক। আপিল বিভাগ ওই আপিল ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হাইকোর্টে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। এরপরে দুদকের পক্ষ থেকে সকল আপিল নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। এই আবেদনে হাইকোর্ট গত ৩ জুলাই শুনানির দিন ধার্য করলেও খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আবেদনে আরো দুইবার শুনানির তারিখ পেছানো হয়। সর্বশেষ গত ১২ জুলাই নির্ধারিত দিনে শুনানি শুরু হয়। এ শুনানি এখনও অব্যাহত রয়েছে।



মন্তব্য