kalerkantho


তদবীরের জোরে জামিন : আইনজীবীদের অসন্তোষ

আদালত প্রতিবেদক   

৫ জুলাই, ২০১৮ ২১:৫৯



তদবীরের জোরে জামিন : আইনজীবীদের অসন্তোষ

একই অভিযাগে দায়ের হওয়া মামলায় আসামি জামিন পেয়েছেন। কিন্তু একই মামলায় সন্দেহজনক গ্রেপ্তার অন্য আসামিদের জামিন নাকচ হওয়ায় ঢাকার নিম্ন আাদালতে আইনজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেকেই একে তদবীরের জোরে জামিন দেওয়া হয়েছে বলে আখ্যায়িত করেছে।

গুঞ্জন শুনে ঘটনার অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর খিলগাঁও থানায় বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনের এক মামলায় বিশেষ আবেদনের (পুট আপ) প্রেক্ষিতে সন্দেহজনক গ্রেপ্তার এক আসামির জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।

গত ৩ জুলাই শুনানি শেষে মহানগর হাকিম আবু সাঈদ ওই আসামির জামিন মঞ্জুর করেন। আসামি এ কে এম আনিসুজ্জামানের জামিন মঞ্জুর করার ক্ষেত্রে বিচারক আদেশে বলেন, আসামির নাম এজাহারে নাই। সন্দিগ্ধ , সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। রাজনৈতিক কোনো পদ-পদবী নেই। গত ২৩ জুন থেকে জেল হাজতে আছে। এছাড়া একই প্রতিবেদনে গ্রেপ্তার করে পাঠানো অন্য আসামি জামিনে আছে।

অথচ একই প্রতিবেদনে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির জামিন পরদিন নাকচ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার আরেক আসামিও জামিন পাননি। এর প্রেক্ষিতে আসামিরা আদালতে বৈষম্যের শিকার হয়েছে বলে অভিজ্ঞ ফৌজদারী আইনজীবীরা মত প্রকাশ করেন।

এ নিয়ে আইনজীবী সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা খান বলেন, এ কেমন বিচার। এক ও অভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া আইনের দুষ্টিতে অপরাধের ক্ষেত্রে সহ অবস্থানে থাকা আসামি ন্যায় বিচারের মানদন্ডে সমান সুযোগ পাবে, এটাই স্বাভাবিক।

তিনি  বলেন, দেশের নাগরিক সবার জন্য আইনে সমান অধিকার ও সুযোগ রয়েছে। বিচারের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসম্পন্ন ভিন্ন বিচারকের দৃষ্টি ভঙ্গি পৃথক হতে পারে। কিন্তু আদেশের বিষয়ে অসংগতি থাকার সুযোগ নেই।

মামলাটি তদন্তাধীন। এরই মধ্যে জামিনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার প্রসিকিউশন কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মো. আশরাফুল এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করেছি। বিচারক তার বিবেচনায় জামিন দিয়েছেন। পরেরদিন একই সঙ্গে সহ অবস্থানে থাকা গ্রেপ্তার দুইজন ও গতকাল আরেক আসামির জামিনও নাকচ করা হয়েছে।

এছাড়া, নথি ঘেটে পাওয়া এই মামলায় সবার প্রথমে জামিন পাওয়া আসামির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রসিকিউশনের ওই কর্মকর্তা জানান, সন্দেহজনক গ্রেপ্তার নুরুল আলী রাজনৈতিক দলের সদস্য নয়। কাগজপত্র দাখিল করে বলা হয়েছে সে ব্যাংকে কর্মরত। শারীরীক ভাবে অসুস্থ। আবেদনে উল্লেখিত ওই সব গ্রাউন্ড বিবেচনায় তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে।

নথির অবস্থা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ৩ জুলাই এ কে এম আনিসুজ্জামানের পক্ষে জামিন চান অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ। তার পক্ষে দাখিল করা ওকালতনামায় আইনজীবীর দেওয়া ফোন নম্বরে তাকে পাওয়া যায়নি। চেম্বারের ঠিাকানামতো সেখানে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।   

একই সাথে গত ২২ জুন গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি মিজানুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমানের পক্ষে পরেরদিন জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়।  পৃথক আবেদনে আসামিদের পক্ষে বলা হয়, এজাহারে তাদের নাম নাই। সুনিদিষ্ট কোন অভিযোগ নাই। রাজনৈতিক মামলায় সন্দেহজনক গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তারা কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য নয়। কোনও দলে তাদের পদ-পদবী নাই। দেশের স্থায়ী নাগরিক। একই ফরওয়ার্ডিং এর আসামিরা জামিনে আছে। যে কোন শর্তে অথবা সহ আসামির শর্তে জামিন দেওয়া হোক।

এ মামলায় শুনানি শেষে মহানগর হাকিম মাহমুদা আকতার জামিন নামঞ্জুর করেছেন। আদেশে বলেন, মামলার ধারা অজামিনযোগ্য। মামলাটি তদন্তাধীন। এ পর্যায়ে জামিন না মঞ্জুর।  

মামলার এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী দেখা যায়, চলতি বছরের গত ১৭ মে রাজধানীর খিলগাঁও থানার দক্ষিন বনশ্রী গোরস্থানের সামনে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করে। তারা সরকার বিরোধী শ্লোগান দেয়। চলাচলরত সাধারণ নাগরিকদের গাড়ি ভাংচুর করে। এতে জনমনে আতংক সৃষ্টি হয়। কর্তব্যরত পুলিশ বাধা দিলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অজ্ঞাত আসামিরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ওই ঘটনায় খিলগাঁও থানায় দন্ডবিধি ও বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩/৬ ধারায় রাষ্ট্র বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে।



মন্তব্য