kalerkantho


হাইকোর্টে খালেদার জামিন আবেদনের শুনানি মুলতবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ জুন, ২০১৮ ০১:৪৪



হাইকোর্টে খালেদার জামিন আবেদনের শুনানি মুলতবি

খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় দায়ের করা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি রবিবার পর্যন্ত মুলতবি করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. শওকত হোসেন ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দিয়েছেন।

আদালত সূত্র জানায়, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় দায়ের করা মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। গতকাল এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন শুনানি করেন। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মৌখিকভাবে করা সময় আবেদনে আদালত শুনানি মুলতবি করে আদেশ দেন।

খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনে গতকাল সকালে শুনানি শুরুর কথা ছিল। কিন্তু তাঁর আইনজীবীর কারণে সময় পিছিয়ে ১২টায় শুনানি শুরু হয়।  তখন আদালত বলেন, অবকাশকালীন বেঞ্চে আমরা সব মিলিয়ে দুই ঘণ্টার মতো সময় পাই। সেখানে কিছু মামলা শুনি। এটা তো বড় মামলা, তাই সময় লাগবে। এখন এই সময়টাও আপনারা নষ্ট করে দিবেন? আপনারা এটা নিয়মিত বেঞ্চে শুনানি করেন। জবাবে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, মামলাটা সাধারণই। শুধু নামটাই বড়। তখন আদালত বলেন, নাম বড় বলেই তো সমস্যা। অন্য কোনো মামলা কি মিডিয়ায় এভাবে আসে?

আদালত শুনানি শুরুর আদেশ দিলে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, মামলার এজাহারে খালেদা জিয়ার নাম ছিল না। অভিযোগপত্রে আসামির তালিকায় ১২১ নম্বরে তাঁর নাম রয়েছে। এ মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। তবে অন্য আসামিরা জামিনে আছেন। আমরা তাঁর বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারিপূর্বক জামিন চেয়েছি। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আমাদের প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি আবেদন নামঞ্জুর করে বলেছেন, আমাদের জামিন আবেদন করার সুযোগ নেই। এ জাতীয় বিষয়ে অন্য একটি বেঞ্চ থেকে আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিচারিক আদালতের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তখন আদালত বলেন, হাইকোর্ট থেকে অন্য মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে দ্রুত জামিন শুনানি নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। এটা কি সেই একই ধরনের বিষয় (মামলার বিষয়বস্তু)? জবাবে খন্দকার মাহবুব হোসেন হ্যাঁ-সূচক জবাব দিলে আদালত বলেন, সিনিয়র বেঞ্চ থেকে যেহেতু একটা অর্ডার এসেছে, আমাদের তো সেটা অনুসরণ করা উচিত। 

আদালত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে উদ্দেশ করে বলেন, যেহেতু অন্য একটি বেঞ্চ থেকে এ জাতীয় আবেদন নিষ্পত্তির বিষয়ে একটা আদেশ দেওয়া হয়েছে। ওয়েবসাইটেও দেওয়া হয়েছে, পত্রপত্রিকাতেও আমরা দেখেছি। তাহলে আমরা একই ধরনের আদেশ দিলে আপনার মতামত কি?

জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আমি আদেশটি (হাইকোর্টের) দেখিনি। আগামী রবিবার পর্যন্ত সময় দিন, সেদিন দেখে এসে শুনানি করব।

এ পর্যায়ে আদালত রবিবার পর্যন্ত মামলার শুনানি মুলতবি করতে চাইলে খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আপত্তি তোলেন। তিনি বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল তো আদেশটা এখনই পড়ে একটা মতামত দিতে পারেন। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, চার পাতার রায় পড়তে তিন দিন লাগে? তখন আদালত বলেন, উনি তো বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা। রবিবার পর্যন্ত সময় চেয়েছেন, অর্ডারটা দেখার জন্য। আমরা তো উনাকে ডিক্টেট করতে পারি না। সিনিয়র হিসেবে তো আপনারাও এই সুবিধাটা ভোগ করে থাকেন। এরপর আদালত শুনানি রবিবার পর্যন্ত মুলতবি করেন।

গতকাল খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এ জে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান, অ্যাডভোকেট মো. মাসুদ রানা প্রমুখ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন।

২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুরে আইকন পরিবহনের একটি বাসে পেট্রলবোমা ছুড়ে মারলে আটজন যাত্রী নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়। এ ঘটনায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়। বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় গত ২৮ মে কুমিল্লার আদালতে খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো এবং জামিনের আবেদন করা হয়। কিন্তু আদালত খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন খারিজ করে দেন। আদালত জামিন আবেদনের বিষয়ে আদেশে বলেন, জামিন আবেদন করার অবকাশ নেই। এরপর আদালত আগামী ৮ আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে গত ৫ জুন আপিল করে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন খালেদা জিয়া। এ জামিন আবেদনের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়েছে।

গতকাল আদেশের পর ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, বিচারিক আদালত সুপ্রিম কোর্টের অধীনে কাজ না করে সরকারের অধীনে কাজ করছে। তাদের জবাবদিহিতা এখন সুপ্রিম কোর্টের কাছে নেই, আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে চলে গেছে।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল ইচ্ছাকৃতভাবে খালেদা জিয়ার কারাবরণ দীর্ঘায়িত করতে এ ধরনের আচরণ করেছেন। এ আচরণ কখনোই ন্যায়বিচারের পক্ষে না। এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক আচরণ।



মন্তব্য