kalerkantho


জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট মামলায় খালেদার পিডব্লিউ প্রত্যাহার

আদালত প্রতিবেদক   

৪ জুন, ২০১৮ ১৭:৫৩



জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট মামলায় খালেদার পিডব্লিউ প্রত্যাহার

ফাইল ছবি

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট মামলার শুনানিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির না করে কাষ্টডি পাঠানোর কারণে ক্ষুব্ধ দুর্নীতি দমন কমিশনের কৌসুলি (পিপি)। এটা পরিকল্পিত না অপরিকল্পিত, এটার মধ্যে কী তথ্য আছে তা বোঝা ও প্রকৃত রহস্য জানার জন্য ডাক্তারকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত মর্মে মৌখিকভাবে আদালতে নিবেদন করেন। অন্যদিকে খালেদাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা সংক্রান্তে জারি করা প্রডাকশন ওয়ারেন্ট (পিডব্লিউ) তার আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রত্যাহার করা হয়েছে। 

আজ সোমবার সকালে রাজধানীর বকশিবাজার আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে নির্মিত বিশেষ এজলাসে সংশ্লিস্ট ঢাকার বিশেষ জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান শুনানি গ্রহণের জন্য এজলাসে উপস্থিত হন। শুনানি গ্রহণ শেষে বিচারক এ আদেশ দেন।

এদিন মামলার যুক্তিতর্কের জন্য ধার্য তারিখে শুনানির প্রাক্কালে কাষ্টডির কাগজ হাতে নিয়ে ডাক্তারি মতামত ‘খালেদা ইজ ফিজিক্যালি আনফিট ফর টুডে’ পড়ে দুদকের পিপি মোশারফ হোসেন কাজল বলেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট্র মামলার রায় হওয়ার পর থেকে কারাগারে থাকা খালেদাকে আর আদালতে হাজির করা হয়নি। একজন ডাক্তার তাকে দেখে বলেছেন অসুস্থ। প্রতি হাজিরার দিন লিখে দেন, ফিজিক্যালি আনফিট ফর টুডে। এ শব্দের কী ব্যাখা আমি তা বুঝি না। আজকের জন্য আনফিট না অনেক দিনের জন্য আনফিট।  এটা কি ধরনের একটা আইনগত প্রক্রিয়া আমার বোধগম্য নয়। তিনি কী আসবেন না, না ডাক্তার সাহেব তাকে পাঠাচ্ছেন না এটা বুঝতে পারছি না। প্রথম দিকে মনে করেছিলাম হাঁটু বা অন্য কোনো সমস্যার কারণে খালেদা জিয়া হয়তো আসছেন না। কিছুদিন আগে পিজি হাসপাতালে গিয়ে তিনি হেঁটে চিকিৎসা নিয়েছেন। কিন্তু এখন ডাক্তার এ কথা লিখে কেন পাঠাচ্ছেন না তা আমার বোধগম্য হয় না। এটা পরিকল্পিত না অপরিকল্পিত, এটার মধ্যে কী তথ্য আছে তা বোঝা ও প্রকৃত রহস্য জানার জন্য ডাক্তারকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত মর্মে মৌখিকভাবে আদালতে নিবেদন করেন। 

বিচারককে উদ্দেশ্য করে এ সময় তিনি বলেন, আমরা ডাক্তার সাহেবের প্রক্রিয়ার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে গেছি। আজ আসতে পারবেন না, কাল সুস্থ হয়ে যাবেন এটা কেমন কথা। ডাক্তারকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলে এ পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে। 

কাজল বলেন, খালেদা জিয়া আসলে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়ে যেত। মামলাটি নিষ্পত্তি করতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 

এর জবাবে খালেদার জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার বলেন, আপনি (আদালত) খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করতে জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আজ আদালতে হাজির হওয়ার উপযুক্ত না। এ কথাটার এতো সহজ মিনিং আমরা এভাবেই বুঝেছি। এখন অন্য কেউ যদি অন্যভাবে বুঝে থাকে। 

পিডব্লিউ প্রত্যাহারের আবেদন প্রসঙ্গে দুদকের পিপি বিচারককে বলেন, মামলাটিতে যুক্তি উপস্থাপন চলছে। এখন যে তারিখটা দেবেন ওই তারিখের মধ্যে খালেদা জিয়া বের হতে কি না তা তো আমরা জানি না। 

জবাবে খালেদার আইনজীবী তালুকদার বলেন, পিডব্লিউ প্রত্যাহার করলে তো আর জোর করে জেল থেকে বের করা যাবে না। দুদক পিপি উত্তরে বলেন, তাহলে তো পরবর্তী তারিখে আমাকে ফের পিডব্লিউ ইস্যুর আবেদন দিতে হবে। প্রত্যুত্তরে তালুকদার বলেন, আপনাকে দিতে হবে না। আমরাই দিব। আর নয় আপনাকে সাথে সাথে অবহিত করব পিডব্লিউ দিতে। 

উভয়পক্ষের শুনানি শেষ হওয়ার আগে মামলার আরেক আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না চিকিৎসা ও পবিত্র ওমরা হজ পালনের লক্ষ্যে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। এক মাসের মধ্যে চিকিৎসা ও ওমরা করে ফিরে আসবেন বলে আদালতকে অবহিত করেন তার আইনজীবী আমিনুল হক। এর প্রেক্ষিতে বিচারক রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য শুনতে চাইলে দুদক পিপি বলেন, মুন্না সরকারি চাকরিজীবী। তার জিও (সরকারি অনুমতি) আদালতে দাখিল করা হলে সেটা আদালতের বিবেচনা। 

বেলা ১১টার দিকে বিচারক এজলাসে উঠলে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেন। 

উল্লেখ্য, এ মামলায় খালেদা জামিনে থাকলেও মানহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আইনি জটিলতার দরুন কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না তিনি। ঈদ-উল ফিতরের দিন কারাগারেই থাকতে হবে তাকে। 



মন্তব্য