kalerkantho


দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি মঙ্গলবার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মে, ২০১৮ ০১:২৪



দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি মঙ্গলবার

খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

হত্যার অভিযোগে কুমিল্লার মামলায় এবং মানহানির অভিযোগে নড়াইলে করা মামলায় হাইকোর্টে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদনের ওপর গতকাল সোমবার শুনানি হয়নি। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সময়ের আবেদনে আদালত আজ মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় শুনানির দিন ধার্য করেছেন। 

বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল এ আদেশ দেন। এর আগে রবিবার এ আদালতের অনুমতি নিয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তিন মামলায় জামিন আবেদন দাখিল করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। কুমিল্লার দুটি এবং নড়াইলের একটি মামলায় জামিন আবেদন করা হয়। এর মধ্যে কুমিল্লার একটি এবং নড়াইলের একটি মামলায় করা জামিন আবেদন গতকাল এ আদালতের কার্যতালিকাভুক্ত হয়।
 
গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে এ জামিন আবেদনের শুনানির প্রাক্কালে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতের কাছে সময়ের আবেদন জানান। তিনি বলেন, প্রস্তুতির জন্য সময় দরকার। এরপর আদালত সময় নির্ধারণ করে আদেশ দেন। 

গতকাল শুনানি শুরুর আগেই আদালত কক্ষ থেকে সাংবাদিকদের বের করে দেয় আইন-শৃংখলাবাহিনীর সদস্যরা। আদালত সাংবাদিকদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন-এ কথা বলে সাংবাদিকদের বের করে দেওয়া হয়।   

কুমিল্লায় হত্যার অভিযোগে মামলা
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধ চলাকালে ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুরে দুষ্কৃতিকারীদের ছোঁড়া পেট্রলবোমায় আইকন পরিবহনের একটি বাসে আগুন লেগে আটজন যাত্রী নিহত হয়। আহত হয় ২০ জন। এ ঘটনায় পরদিন চৌদ্দগ্রাম থানায় ৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। 

এ মামলায় খালেদা জিয়া, রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর ৭৮ জনের বিরুদ্ধে গত বছর ২ মার্চ অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এরপর এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে কুমিল্লার আদালত। এ অবস্থায় গত ৫ এপ্রিল এ মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ মামলায় কুমিল্লার আদালতে জামিন আবেদন করেন খালেদা জিয়া। আগামী ৭ জুন শুনানির জন্য রয়েছে। এ অবস্থায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়। এ আবেদন হাইকোর্টের কার্যতালিকাভুক্ত হয়।

নড়াইলে মানহানির অভিযোগের মামলা
মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নিয়ে ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগে ওই বছরের ২৪ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইলে মানহানির মামলা করা হয়। স্থানীয় এক  মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রায়হান ফারুকী ইমাম বাদি হয়ে মামলাটি করেন। ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট খালেদা জিয়াকে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। নির্ধারিত সময়ে খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এ মামলায় এ মাসেই খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করেন নড়াইল সদর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নয়ন বড়াল। এ অবস্থায় এ মামলায় হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হলে গতকাল তা আদালতের কার্যতালিকাভুক্ত করা হয়। 

উল্লেখ্য জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ গত ৮ ফেব্রুয়ারি এক রায়ে খালেদা জিয়াকে ৫ বছর কারাদ্ল দেয়। এ রায়ের পর ২০ ফেব্রুয়ারি আপিল আবেদন (১৬৭৬/২০১৮) দাখিল করেন খালেদা জিয়া। এ আপিল গত ২২ ফেব্রুয়ারি গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। নিম্ন আদালতের দেওয়া জরিমানার রায় স্থগিত করেন। 
এ ছাড়া দুদক সাজা বাড়াতে আপিল করেছে। এ আবেদন আদালত গ্রহণ করে রুল জারি করেছেন। পরে চার যুক্তিতে গত ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চারমাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। এ জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষ। এ আবেদনে গত ১৪ মার্চ আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করেন। পরে ১৮ ও ১৯ মার্চ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ জামিন স্থগিত করেন। 

এ অবস্থায় হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিল গত ১৬ মে খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ফলে এ মামলায় হাইকোর্টের জামিন বহাল রয়েছে। তবে আপিল বিভাগের রায় লেখা সম্পন্ন না হওয়ায় এবং আরো মামলায় গ্রেপ্তার থাকায় মুক্তি পাচ্ছেন না খালেদা জিয়া।



মন্তব্য