kalerkantho


কুকুর হত্যার দায়ে একজনের ছয় মাসের কারাদণ্ড

প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতায় প্রথম দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ মে, ২০১৮ ০৩:১১



কুকুর হত্যার দায়ে একজনের ছয় মাসের কারাদণ্ড

প্রতীকী ছবি

ঢাকার একটি আদালত কুকুর হত্যার দায়ে একজনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই রায়ের মাধ্যমে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার দায়ে এই প্রথম দেশে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হলো বলে মনে করছেন প্রাণী অধিকার রক্ষার আন্দোলনকারীরা। 
রাজধানীর রামপুরার বাগিচারটেকে ১৬টি কুকুরকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ডের শাস্তি পাওয়া ব্যক্তিটি হলেন মো. সিদ্দিক নামের একজন নিরাপত্তা প্রহরী। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আহসান হাবীব শাহিন এই রায় ঘোষণা করেন। কুকুর হত্যার দায়ে কারাদণ্ড দেশে এই প্রথম। এর আগে ঢাকার সাভারে একটি কুকুরকে হত্যার দায়ে একজনকে ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।

মো. সিদ্দিক রামপুরা বাগিচারটেক কল্যাণ সমিতির নিরাপত্তা প্রহরী (সিকিউরিটি গার্ড)। আদালত তাঁকে ২০০ টাকা জরিমানাও করেছেন। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে তাঁকে আরো সাত দিন কারাভোগ করতে হবে। আদালত রায়ে বলেছেন, আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে কুকুর হত্যার ঘটনা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এ কারণে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা আইনের ৭ ধারায় তাঁকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হলো। রায় ঘোষণার সময় আসামি হাজির ছিলেন না। তাঁর পক্ষের আইনজীবীরা সময়ের আবেদন করেন। ওই আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত রায় দেন। আদালত রায়ে বলেন, আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর বা আদালতে আত্মসমর্পণের পর এই রায় কার্যকর হবে। সাজা পরোয়ানা আসামির ঠিকানায় পাঠানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে রামপুরা থানাধীন বাগিচারটেক ৩৫/২ নম্বর বাড়ির পাশের খালি প্লটে থাকা দুটি মা কুকুর ও ১৪টি বাচ্চা কুকুরকে মারধর করেন নিরাপত্তারক্ষী মো. সিদ্দিক। মা কুকুর দুটিকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে অর্ধমৃত করেন সিদ্দিক। পরে ওই বাড়ির পেছেনে একটি গর্ত করে মা কুকুর দুটি ও ১৪টি বাচ্চা কুকুরকে বস্তায় ঢুকিয়ে সবগুলোকে একসঙ্গে কবর দিয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় পিপল ফর এনিম্যাল ওয়েলফেয়ার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান রাকিবুল হক এমিল বাদী হয়ে রামপুরা থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করেন ওই থানার উপপরিদর্শক নাসির উদ্দিন। ২০১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগপত্র দেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. খুরশীদ আলম গত ১৯ এপ্রিল আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এরপর ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। পরে মামলাটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আহসান হাবীব শাহিনের আদালতে স্থানান্তরিত হয়। বাদীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন মিনু রানী রায়, আনিসুর রহমান ও ফয়সাল আহমেদ। আসামিপক্ষে ছিলেন কাশেম আলী। 

এই রায়ে এটি প্রতিষ্ঠিত হলো যে বিনা কারণে কোনো প্রাণী হত্যা করা যাবে না। নিষ্ঠুর আচরণ করা যাবে না। এতে দেশের মানুষ সচেতন হবে। মানুষকে এই রায় মানবিক হতে সহায়তা করবে। গতকাল রায়ের পর মামলার বাদী রাকিবুল হক এমিল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মামলার রায়ে আমরা খুশি। তবে দুঃখটা এই কারণে যে একজনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।’ তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই রায়ে। প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর হওয়া যাবে না—এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার জন্য এবং একই সঙ্গে মানুষকে মানবিক হওয়ার জন্য মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।



মন্তব্য