kalerkantho


কুমিল্লার দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানি শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

২৩ এপ্রিল, ২০১৮ ২০:২৯



কুমিল্লার দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানি শেষ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুর এলাকায় যাত্রীবাহী নৈশকোচে পেট্রল বোমা হামলায় ৮ জন যাত্রী হত্যা কাভার্ডভ্যান পোড়ানোর পৃথক দুটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ায় জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সময়ে সরকার পক্ষের আইনজীবীরা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আদালত কর্তৃক গ্রেপ্তার দেখানোকে আইন সঙ্গত নয় বলে সে আদেশ রদ ও রহিত করার আবেদন জানিয়েছেন।

আজ সোমবার দুই দফা কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ দুটি মামলার শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। আদালতের বিচারক বেগম জেসমিন আরা উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে ‘পরবর্তীতে আদেশ দেওয়া হবে’ বলে জানান। আজ রাত ৮টা এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো আদেশ দেওয়া হয় নি। 

খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানীতে অংশ নেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু শতাধিক আইনজীবী। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান লিটন।

এর আগে গত ৮ এপ্রিল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুর এলাকায় যাত্রীবাহী নৈশকোচে পেট্রোল বোমা হামলায় ৮ জন যাত্রী হত্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে ওই মামলায় (সিডাবি­উডি) গ্রেপ্তার দেখায় আদালত। সেই সাথে জামিন শুনানীর জন্য আগামী ১০ এপ্রিল ধায্য তারিখ নির্ধারণ করেছে আদালত। কুমিল্লার আমল যোগ্য আদালত-৫এর সিনিয়র চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: মোস্তাইন বিল্লাল সে আদেশ দিয়েছিলেন।

এরপর গত ১০ এপ্রিল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুর এলাকায় যাত্রীবাহী নৈশকোচে পেট্রোল বোমা হামলায় ৮ জন যাত্রী হত্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে একই আদালত। পরবর্তীতে তার আইনজীবীরা ১৬ এপ্রিল তাঁর আইনজীবীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করলে আদালত ২৩ এপ্রিল শুনানীর দিন ধার্য্য করেন। সে অনুযায়ী আজ সোমবার দুই মামলার হুকুমের আসামি বেগম খালেদা জিয়ার জামিন শুনানী অনুষ্ঠিত হলো।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান লিটন জানান, আদালত বিএনপির আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে খালেদা জিয়াকে ৮ যাত্রী পুড়িয়ে মারার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে সে আবেদন আইন সঙ্গত নয়। কারণ খালেদা জিয়া আদালতে আত্মসমপর্ন করেন নি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল করবেন যে থানার কর্মকর্তা তিনি তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন নি। আসামি আদালতে হাজির না হলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো যায় না। এটা আইন সঙ্গত নয়। 

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রামের হায়দারপুরে একটি কাভার্ডভ্যান পোড়ানোর অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ ৩২ জন এবং একই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুরে বাসে পেট্রোলবোমা মেরে আগুন লাগিয়ে ৮ যাত্রী হত্যার অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ৭৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ দুটিসহ তিনটি মামলার কুমিল্লার আদালতে কাযক্রম চলছে।


মন্তব্য