kalerkantho


জাকিয়া হত্যা, স্বামী-সতীনের যাবজ্জীবন

আদালত প্রতিবেদক   

১৯ এপ্রিল, ২০১৮ ২৩:৪৬



জাকিয়া হত্যা, স্বামী-সতীনের যাবজ্জীবন

রাজধানীর শ্যামপুরে জাকিয়া বেগম লিলু হত্যার অভিযোগে নিহতের স্বামী ও সতীনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন  আদালত।

মামলার রায়ে নিহতের স্বামী সৈয়দ আমিনুল হক ওরফে আবদুল হক মিলন ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী আকলিমা খাতুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক হত্যা করে লাশ গোপন করার অপরাধে দুইজনকে অতিরিক্ত ৭ বছর করে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরো তিন মাস করে সাজাভোগ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল চতুর্থ আদালতের বিচারক আবদুর রহমান সরদার আসামিদের উপস্থিতিতে ওই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের আগে কারাগার থেকে তাদের এজলাসে আনা হয়। রায় হওয়ার পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেন বিচারক।

বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত পিপি আবদুল কাদের পাটোয়ারী। আসামিদের পক্ষে ছিলেন ফারুক আহাম্মদ।

বিবরণে জানা গেছে, চার্জশিটভুক্ত ১৫ জন সাক্ষির সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। ২০০৪ সালের ৪ জুলাই চার্জ গঠনের পর আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। এর আগে একই বছরের ২৭ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্যামপুর থানার উপপরিদর্শক মো. শাহ আলম আদালতে চার্জশিট দেন।

নিহত জাকিয়ার স্বামী সৈয়দ আমিনুল হক ঢাকায় লাবণ্য ল্যান্ড কনস্ট্রাকশনে চাকরি করতেন। জাকিয়া বেগম দুই সন্তান নিয়ে স্বামীর গ্রামের বাড়িতে থাকতেন। জাকিয়া ছেলে-মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ২০০২ সালের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় আসেন।

পরে ৯ ডিসেম্বর মা জাকিয়া বেগমকে শ্যামপুরের বাসায় রেখে ছেলে-মেয়েরা গ্রামে চলে যায়। গত ১২ ডিসেম্বর আসামিরা জাকিয়াকে হত্যা করে লাশ মাটির নিচে পুঁতে রাখে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ৩১ ডিসেম্বর উপপরিদর্শক সৈয়দ মহসিনুল হক শ্যামপুর থানায় মামলা করেন।

আসামিরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর খুনের দায় স্বীকার করে নিহতের স্বামী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।



মন্তব্য