kalerkantho


হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ এলাকার তিন যুদ্ধাপরাধীর মামলার তদন্ত চূড়ান্ত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ মার্চ, ২০১৮ ১৯:৩২



হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ এলাকার তিন যুদ্ধাপরাধীর মামলার তদন্ত চূড়ান্ত

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার গজানাইপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপ মিয়া (৬৬)সহ তিন আসামির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

এ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার ধানমন্ডিতে তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন, মো. জামাল উদ্দিন আহম্মদ ওরফে মো. জামাল উদ্দিন (৬৫) ও শেখ গিয়াস উদ্দীন আহমদ (৭০)।

সারসংক্ষেপ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান বলেন, ‘এটি তদন্ত সংস্থার ৫৯তম তদন্ত প্রতিবেদন। এ মামলাটির তদন্ত শুরু হয়েছিল দুই বছর আগে ২০১৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি।’

তিনি জানান, দুই বছরের তদন্তে আসামীদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ এলাকায় গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণের মত মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ উঠে এসেছে। এ সময় ১৭ জনকে হত্যা, ৬ নারীকে ধর্ষণ, ২৫টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ৩০ জনকে অপহরণ-নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।’

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. নুর হোসেন বলেন, ‘মোট তিনশ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনটি তিনটি ভলিউমে সন্নিবেশন করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ এ মামলার মোট সাক্ষী ২৩ জন। আট ধরনের অপরাধে তদন্ত সংস্থা আসামীদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ এনেছে। তদন্তের শেষের দিকে গত বছরের ১২ এপ্রিল আসামী গোলাপ মিয়াকে ও ২৩ নভেম্বর জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা কারাগারে আছেন।’ সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত সংস্থার অন্যান্য কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।

আসামীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ৫টি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ-১ : মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ৯ নভেম্বর ভোর ৫টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত আসামী আবুল খায়ের গোলাপ মিয়া ও মো, জামাল উদ্দিন আহম্মেদ ২০/২৫ জন পাকিস্তানি আর্মি নিয়ে নবীগঞ্জ থানার মামদপুর হিন্দু পাড়া ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিন বাবু রায়কে হত্যা করে। এদিন আসামীরা গৌরী রাণীসহ মোট দশজন লোককে আটক ও অপহরণ করে দিনারপুর আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন করে। এদের মধ্যে হিন্দু ধর্মাবলম্বী চার জনকে হত্যা করে। এ অভিযানে দুই নারী পাকিস্তানি আর্মিরা ধর্ষণ করে। রাজাকাররা লোকজনের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে।

অভিযোগ-২ : ১৯৭১ সালের ১০ নভেম্বর ভোর ৫টায় আসামী আবুল খায়ের গোলাপ মিয়া অন্যান্য রাজাকার ও কয়েকজন পাকিস্তানি আর্মি নিয়ে নবীগঞ্জের কান্দিরগাও গ্রামে অভিযান চালিয়ে দরছ মিয়াকে তার বাড়ি থেকে অপহরণ করে দিনারপুর আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। তারা দরছ মিয়ার বসতঘর পুড়িয়ে দেয়।

অভিযোগ-৩ : ১৯৭১ সালের ১০ নভেম্বর সকাল ৮টার দিকে আসামী আবুল খায়ের গোলাপ মিয়া অন্যান্য রাজাকার ও কয়েকজন পাকিস্তানি আর্মিকে সঙ্গে নিয়ে নবীগঞ্জের দেওপাড়া গ্রামে হিন্দু পাড়ায় অভিযান চালিয়ে নিরাই নমশুদ্রসহ হিন্দু ধর্মাবলম্বী তিন জনকে অপহরণ করে আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে নির‌্যাতন করে হত্যা করে।

অভিযোগ-৪ : ১৯৭১ সালের ১১ নভেম্বর ভোর ৫টার দিকে আসামী শেখ গিয়াস উদ্দীন আহমদ অন্যান্য রাজাকার ও কয়েকজন পাকিস্তানি আর্মি নিয়ে নবীগঞ্জের বনগাঁও গ্রামে অভিযান চালিয়ে জহুর উদ্দিন, জনূ উল্লাহ ও দেওয়ান মামুন চৌধুরীকে অপহরণ আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন করে। পরে অর্থের বিনিময়ে জহুর উদ্দিন ও দেওয়ান মামুন চৌধুরী মুক্তি পেলেও জনূ উল্লাহকে আসামী আবুল খায়ের গোলাপ গুলি করে হত্যা করে। এ অভিযানের সময় জহুর উদ্দিনের মা ও এক বোন পাকিস্তানি আর্মিদের ধর্ষনের শিকার হন।

অভিযোগ-৫: ১৯৭১ সালের ১২ নভেম্বর বিকেল ৪টার দিকে আসামী আবুল খায়ের গোলাপ মিয়া ও মো. জামাল উদ্দিন আহম্মেদ একদল পাকিস্তানি আর্মি নিয়ে নবীগঞ্জের লোগাঁও গ্রামে অভিযান চালিয়ে দুই নারীকে ধর্ষণ করে এবং অগ্নিসংযোগ করে কয়েকটি বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়।

তদন্ত সংস্থা জানায়, এ তদন্ত প্রতিবেদন এখন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রসিকিউশন তা ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করে ফরমাল চার্জ দাখিল করবে।

সূত্র: বাসস



মন্তব্য