kalerkantho


প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্তে

বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে দিলেন হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:৪৫



বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে দিলেন হাইকোর্ট

সারাদেশে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এস এম কুদ্দুস জামানের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের কমিটিকে বিষয়টি তদন্ত করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে ফাঁস রোধে কি কৌশল গ্রহণ করা যায় বা সমাধান কি তা খুঁজতে বুয়েটের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের পৃথক একটি প্রশাসনিক কমিটি গঠন করে দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া প্রশ্ন ফাঁস রোধে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছেন আদালত।

আদালতের আদেশের কপি পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে এ কমিটিকে কাজ শুরু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। কমিটিকেই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

শিক্ষা, আইন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, স্বরাষ্ট্র, তথ্য প্রযুক্তি সচিব, বিটিআরসি চেয়ারম্যান, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ৯টি শিড়্গা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ ২০ বিবাদীকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আইনুন নাহার সিদ্দিকা, শিকদার মাহমুদুল রাজী, মোহাম্মদ রাজু মিয়া ও নুর মুহাম্মদ আজমীর করা রিট আবেদনে প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন আদালত। রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোতিময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান।

প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষা বাতিল চেয়ে করা এক রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন। গতকাল সকালে শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্তে সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে। এ সময় আদালত কমিটির অগ্রগতি জানতে চান। এ সময় আদালত রুল জারি করেন। এ রুল জারি আগে আদালত প্রশ্নপত্র ফাঁস বিষয়ে মন্তব্য করেন। এ ছাড়া বেলা ২টায় পরবর্তী আদেশের জন্য সময় নির্ধারণ করেন আদালত। এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ে আদালত পৃথক দুটি কমিটি গঠন করে আদেশ দেন।

বিচার বিভাগীয় কমিটি : বিচার বিভাগীয় কমিটির অপর চার সদস্য হলেন-নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার মুখ্য মহানগর হাকিম এবং আইন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পর্যায়ের একজন করে কর্মকর্তা।

প্রশাসনিক কমিটি : প্রশাসনিক কমিটির অপর চার সদস্য হলেন-বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক সোহেল রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটি থেকে একজন আইটি বিশেষজ্ঞ এবং সিআইডির ডিআইজি।

আদালতের আদেশের পর আইনজীবী সাংবাদিক জানিয়েছেন যে, আদালত বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা মহামারি আকার ধারণ করেছে। মাদক যেমনভাবে তরুণ সমাজকে ধ্বংস করছে, তেমনি প্রশ্নপত্র ফাঁসও দেশের তরুণদের ভবিষ্যত ধ্বংস করছে। আজ যারা এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে তারাই তো ৫/১০ বছর পরে দেশের নেতৃত্ব দেবে। তাদের অবস্থা যদি আজ এরকম হয় তাহলে জাতি ধ্বংস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় আদালত নীরব দর্শকের মতো বসে থাকতে পারে না। যেভাবেই হোক এটা বন্ধ করতে হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, প্রশ্ন ফাঁস সব সময় অন্যায়। আমি আদালতকে বলেছিলাম, এটা কিভাবে রোধ করা যায় তার একটি পন্থা বের করার জন্য। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদসহ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গঠন করার পরামর্শ দিয়েছিলাম। আদালত কমিটি গঠন করে আদেশ দিয়েছেন।

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, বিচার বিভাগীয় কমিটির কাজ হবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কারা জড়িত, কী কী উপায়ে, কার কার মাধ্যমে এবং কোন মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে সেগুলো চিহ্নিত করবে। এ বিষয়ে কি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত সেবিষয়ে সুপারিশ দেবে। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় এবং ভবিষ্যতে আর কোনো পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস না হয়, কি পদ্ধতি অনুসরণ করলে আর প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না সে বিষয়ে সুপারিশ দেবে।

বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিনিয়ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। এ অবস্থায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগেরও দাবি উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী আকন্দ স্বেচ্ছায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। এ অবস্থায় চার আইনজীবী রিট আবেদন করেন। প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে এ রিট আবেদন করা হয়।



মন্তব্য