kalerkantho


হবিগঞ্জের এসপিকে সতর্ক করলেন হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২২:১৭



হবিগঞ্জের এসপিকে সতর্ক করলেন হাইকোর্ট

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গুলি ভর্তি পিস্তলসহ ফারমার্স ব্যাংকের পরিচালক আজমত রহমান ধরা পড়ার বিষয় ধামাচাপা দেওয়ায় ঘটনায় হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার(এসপি) বিধান ত্রিপুরাকে সতর্ক করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাকে আরো সতর্ক থাকতে বললেন আদালত। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ বিধান ত্রিপুরাকে সতর্ক করে আদেশ দেন। একইসঙ্গে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর এ বিষয়ে স্বতঃপ্রনোদিত হয়ে আদালতের জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে আদেশ দেন হাইকোর্ট বেঞ্চ। 

প্রসঙ্গত, অস্ত্র আটকের সময় পুলিশের উত্তরা জোনের উপ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বিধান ত্রিপুরা। 

আদালতে এদিন বিধান ত্রিপুরার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার ও ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ হোসেন ও সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোরশেদ। 

গত ৩০ জানুয়ারি হাইকোর্ট তাকে তলব করেন। আজ মঙ্গলবার তার আদালতে হাজির হওয়ার দিন ছিল। আদালতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি হাজির হন। তিনি আদালতে বলেন, পিস্তলের লাইসেন্স দেখানোয় মানবিক কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। 

হাইকোর্ট গত বছরের ১২ ডিসেম্বর স্বতঃপ্রনোদিত হয়ে এক আদেশে পুলিশ কর্মকর্তাদের তলব করেন। তাদের ২২ জানুয়ারি হাজির হতে বলা হয়। কিন্তু এদিন ছুটি থাকায় ২৪ জানুয়ারি বিমানবন্দর থানার ওসি ও সংশ্লিষ্ট এসআই হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে নিঃশর্ত ক্ষমার আবেদন করেন। এ সময় আদালত তাদের ভর্ৎসনা করেন। নির্ধারিত দিনে ওসি ও সংশ্লিষ্ট এসআই হাজির হলে আদালত বিধান ত্রিপুরাকে তলব করেন। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, বিদেশ যাবার প্রাক্কালে গত বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে গুলি ভর্তি পিস্তলসহ ফারমার্স ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ড. আতাহার উদ্দিনের ছেলে ব্যাংকটির পরিচালক আজমত রহমান ধরা পড়েন। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই তিনি পিস্তল নিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন পর গত বছর ১০ ডিসেম্বর সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর দুই দিন পর ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে আদালত রুল জারি করেন ও দুই পুলিশকে তলব করেন।

রুলে নিষিদ্ধ এলাকায় গুলি ভর্তি পিস্তলসহ ধরা পড়ার পর তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আদালতে সোপর্দ না করায় কেন ব্যাখ্যা দিতে ওসি এবং এসআইকে স্বশরীরে আদালতে হাজির হবার নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। 


মন্তব্য