kalerkantho


খালেদা জিয়া জেলে, ডিভিশন পাননি

ওমর ফারুক   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০২:৪২



খালেদা জিয়া জেলে, ডিভিশন পাননি

ছবি: কালের কণ্ঠ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা হওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে রাত ৮টা পর্যন্ত তাঁকে ডিভিশন দেওয়া হয়নি। সে কারণে অতি গুরুত্বপূর্ণ (ভিআইপি) ব্যক্তি হলেও সাধারণ বন্দি হিসেবেই কারাগারে রাখা হচ্ছে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে। আবেদন না করায় আদালত ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা পায়নি বলে কারা কর্তৃপক্ষ তাঁকে ভিভিশন দেয়নি বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির গতকাল রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কারাবিধি অনুযায়ী কোনো সাজাপ্রাপ্ত ভিআইপি বন্দিকে ডিভিশন দেওয়া হয় না। তবে আদালত বা সরকারের অনুমোদন পেলে ডিভিশন দেওয়া যায়।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ভালো আছেন, সুস্থ আছেন।

কারাগারে অন্য এক কর্মকর্তা জানান, কোনো ভিআইপির বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর তিনি যদি কারাহাজতে থাকেন, তাহলে তাঁকে ডিভিশন দেওয়া হয়। কিন্তু বিচারে তাঁর সাজা হয়ে গেলে ডিভিশন বাতিল হয়ে যায়। তবে আদালত বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি ডিভিশন দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশ দেয়, সে ক্ষেত্রে এই বন্দির ডিভিশন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

গতকাল বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে খালেদা জিয়াকে একটি গাড়িতে করে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

কারা সূত্র জানায়, এ সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর আইনজীবীরাও আদালত থেকে গাড়ির সঙ্গে কারাগারের সামনে যান। কারাগারে যাওয়ার পর খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িটি ফটক খুলে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁর আইনজীবীদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ঢোকার পর খালেদা জিয়াকে কারাগারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গ্রহণ করেন। কারাগারের ফটকসংলগ্ন সিনিয়র জেল সুপারের কক্ষে নিয়ে বসানো হয় তাঁকে। সেখানে বসে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় মহিলা ওয়ার্ডের নিচতলায়। সেখানে দুটি বড় কক্ষ রয়েছে। তাঁকে একটি কক্ষে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে একটি সূত্রের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে সিনিয়র জেল সুপারের কক্ষেই রাখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিভাগের ডিআইজি প্রিজনস তৌহিদুল ইসলাম গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মহিলা ওয়ার্ডের নিচতলায় তাঁকে (খালেদা জিয়া) রাখা হয়েছে।’

কারা সূত্রে আরো জানা গেছে, মর্যাদাভেদে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য কারাগারে গ্রেড-১ ও গ্রেড-২-এ দুই ধরনের ভিভিশনের ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রেড-১ ডিভিশন পাওয়া বন্দিরা খাট, টেবিল-চেয়ার, উন্নতমানের খাবার, পত্রিকা এসব পেয়ে থাকেন।

এদিকে কারাগারে খালেদা জিয়াকে হাঁটাচলায় সহযোগিতা করার জন্য একজন ব্যক্তিগত মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছিল বলে জানান তাঁর আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, খালেদা জিয়ার একা একা চলাফেরা করতে অসুবিধা হয়। সে জন্য আদালতের কাছে তাঁর অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য একজনকে দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

খালেদা জিয়ার রায় সামনে রেখে চার-পাঁচ দিন আগে থেকেই ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারটির মহিলা ওয়ার্ড পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। সেখানে নতুন একটি খাটও বসানো হয়েছে। তিনতলা ভবনটিতে হালকা রংও করে কারা কর্তৃপক্ষ। একটি বাথরুম তৈরিসহ লাগানো হয় ফ্যান, লাইট ইত্যাদি আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র।

এক কারা কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, খালেদা জিয়ার সাজা হলে তাঁকে কোথায় রাখবেন, তা নিয়ে কয়েক দিন আগে কয়েক দফা বৈঠক করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে বলা হয়েছে খালেদা জিয়াকে আদালতের কাছাকাছি রাখা যায় এমন স্থাপনা চিহ্নিত করার জন্য। এ কারণে কারা কর্তৃপক্ষ নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারকে উপযুক্ত মনে করেছে।



মন্তব্য