kalerkantho


নাইকো দুর্নীতি মামলা

খালেদার সময় মঞ্জুর, অভিযোগ থেকে মুক্তি চান মওদুদ

আদালত প্রতিবেদক   

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২২:৪৯



খালেদার সময় মঞ্জুর, অভিযোগ থেকে মুক্তি চান মওদুদ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে চলমান নাইকো দুর্নীতি মামলায় চার্জ গঠন বিষয়ে পর্যায়ক্রমে শুনানি চলছে। খালেদার সময় আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। চার্জশিটভুক্ত আসামি ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ নিজেই মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে আংশিক শুনানি করেছেন। অবশিষ্ট শুনানির জন্য আগামি ১১ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে। 

ইতিমধ্যে মামলার অপর পাঁচ আসামির পক্ষে অব্যাহতি চেয়ে করা আবেদন শুনানি শেষ হয়েছে। আদালতে এরা প্রত্যেকেই নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। 

সরকারের প্রজ্ঞাপন জারির পর পুরান ঢাকার বকশিবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে নির্মিত এজলাসে এ মামলার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজ রবিবার ঢাকার নবম বিশেষ জজ মাহমুদুল কবীর এ মামলায় শুনানি গ্রহণ করেন। 

খালেদা জিয়ার পক্ষে এক আবেদন দাখিল করে সময় চাওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অসুবিধার বিষয় বিবেচনায় আদালতে হাজির হতে পারেননি।’ রাষ্ট্রপক্ষ এ আবেদনের কোন বিরোধিতা করেনি। 

শুনানি শেষে বিচারক খালেদার পক্ষে করা সময়ের আবেদন মঞ্জুর করেন। এ সময় ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদের আংশিক বক্তব্য গ্রহণ করে অবশিষ্ট শুনানি পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত মুলতবি করেন। 

আদালতে হাজির থাকা অবস্থায় ব্যারিষ্টার মওদুদ নিজেই শুনানি করেন। মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চান তিনি। 

মওদুদ বলেন, ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে মামলাতে জড়ানো হয়েছে। মামলার এজাহারে নাম ছিল না। কথিত ঘটনার সাথে কোনো সম্পৃক্ততা নাই। আনা অভিযোগ ভিত্তীহীন, আমার উপর বর্তায় না। অহেতুক হয়রানি করতেই চার্জশিটে আসামি করা হয়েছে।’  

মামলার এগারো আসামির মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ছাড়া মামলায় জামিনে থাকা ছয় আসামি এদিন আদালতে হাজির ছিলেন। এ মামলায় জামিনে থাকলেও অন্য মামলায় কারাগারে থাকা আসামি গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে কাশিমপুর থেকে আদালতে হাজির করা হয়। 

নথি সূত্রে দেখা গেছে, এ মামলায় খালেদা জিয়া ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একে এম মোশাররফ হোসেনের পক্ষে অব্যাহতির আবেদন শুনানি হয়নি। 

মামলার অপর তিন আসামি নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ, প্রধানমন্ত্রীর তত্কালীন মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক পলাতক রয়েছেন। 

গত বছরের ১৯ নভেম্বর চার্জ গঠনের শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে দুর্নীতি দমন কমিশনের বিশেষ পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল মামলায় চার্জ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। একইদিন মামলার সাত নম্বর আসামি প্রাক্তন সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইনের পক্ষে অব্যাহতি চেয়ে করা আবেদনের শুনানি হয়। পরের তারিখে গত বছরের ১১ ডিসেম্বর আসামি বিতর্কিত ব্যবসায়ী তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া (সিলভার সেলিম), জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম ও বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমানের পক্ষে অব্যাহতি চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষ হয়। 

ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কম্পানি নাইকোর হাতে তুলে দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে খালেদাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

পরের বছরের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনকে আসামি করে দুদকের তৎকালীন সহকারি পরিচালক সাহিদুর রহমান চার্জশিট দাখিল করেন।

চাজশিটে বলা হয়, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের নিজস্ব দুইটি আবিষ্কৃত গ্যাস ফিল্ডকে মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন উল্লেখ করে পরিত্যক্ত গ্যাস ফিল্ড হিসেবে ঘোষণা করে তৎকালীন বিএনপি সরকার। নাইকো রিসোর্সেস বাংলাদেশ লি. নামে একটি অদক্ষ বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে বিনা টেন্ডারে এবং সরকারি নিয়ম-নীতিবহির্ভূতভাবে ছাতক ও ফেনী গ্যাস ক্ষেত্রের গ্যাস উত্তোলনের সুযোগ দেয়। এর মাধ্যমে সেখানে মজুদ ২৭৬২ বিসিএফ গ্যাসের মধ্য থেকে উত্তোলনযোগ্য ১৭৪৪ বিসিএফ গ্যাস উত্তোলনের অবৈধ সুযোগ দিয়ে রাষ্ট্রের ন্যূনতম তেরো হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা ক্ষতিসাধন করে।

খালেদা জিয়া এর বৈধতা চ্যলেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে ২০০৮ সালের ৯ জুলাই হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেন। বর্তমান সরকারের আমলে দুদক রুল শুনানি করলে ২০১৫ সালের ১৮ জুন হাইকোর্ট খালেদার আবেদন খারজি করার প্রেক্ষিতে মামলায় তার পক্ষে স্থগিতাদেশ বাতিল হয়ে যায়। নিম্ন আদালতে জামিন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। একই বছরের ২৯ নভেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন তিনি(খালেদা)। 

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ মামলায় প্রথম কারাগারে যান খালেদা। ২০০৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট থেকে জামিন পান।

উল্লেখ্য, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ মামলাসহ বিচারাধীন ১৪টি মামলার কার্যক্রম পুরান ঢাকার বকশীবাজারে অস্থায়ী এজলাসে চলবে বলে সরকারের আইন মন্ত্রণালয় চলতি বছরের গত ৮ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপর থেকে মামলার দুইটি তারিখে এই এজলাসে বিচার কার্যক্রম চলছে।


মন্তব্য