kalerkantho


বিএনপির হেলালসহ ৩২ জন রিমান্ডে

আদালত প্রতিবেদক   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২০:৩৬



বিএনপির হেলালসহ ৩২ জন রিমান্ডে

বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার ৩৪ জনের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলালসহ ৩২ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হেলালসহ ৩১ জনের পাঁচদিন করে, একজনের একদিন ও দুই জনের রিমান্ড নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
 
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মোহা. আহসান হাবীব আসামিদের ওই রিমান্ড মঞ্জুরের আদেশ দেন।

রাজধানীর রমনা থানায় দায়ের বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপ-পরিদর্শক মুহম্মদ সাইফুল ইসলাম খাঁন। গ্রেপ্তার ৩৪ জন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি চান তিনি।

রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারি কমিশনার মিরাশ উদ্দিন। তিনি বলেন, আজিজুল বারী হেলাল সংঘর্ষের ঘটনার নায়ক। বহুবার তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন। জামিনও পেয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, অন্যান্য আসামিরা সংঘর্ষের সময় প্রিজন ভ্যান ভাঙচুর করে পুলিশের হেফাজত থেকে আসামি ছিনতাই করেছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অন্যান্য অপরাধীদের সম্পর্কে তথ্য জানা সম্ভব হবে।

আসামিদের পক্ষে শুনানিতে রিমান্ড বাতিল করে জামিন চান অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া। শুনানিতে তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হেলাল ঘটনার সময় ভারতের দিল্লিতে থাকলেও দেখা যায় রাজধানীর প্রত্যেক থানার মামলায় তার নাম আছে।

তিনি আরো দাবি করেন, কথিত ঘটনার সময় তিনি ছিলেন না। বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছ থেকে দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সবুজ সংকেত পাওয়ার কারণে তিনি নির্বাচনী এলাকায় ব্যস্ত আছেন। আগামি ৩ ফেব্রুয়ারি দলের সভায় যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বুধবার তিনি ঢাকায় এসেছেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।

তিনি আরো বলেন, অন্যান্য যাদের গ্রেপ্তার করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে, তারা কেউ চোর নন। অথচ চুরির কথা বলে তাদের চরিত্র হরণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরো দাবি করেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বকশিবাজারের আদালতে মামলায় হাজিরা দিতে যান। দলের নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিতে পারে। এটা গণতান্ত্রিক অধিকার। তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তদন্তের স্বার্থে যদি কোনো জিজ্ঞাসা কর্মকর্তার থাকে সে ক্ষেত্রে তিনি জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। যেহেতু গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই, সেহেতু তাদের রিমান্ড নামঞ্জুর করে জামিন দেওয়ার জন্য নিবেদন করছি।
 
এ মামলায় হেলাল ছাড়াও পাঁচদিন রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া আসামিদের মধ্যে উল্লেখ হলেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাসান মামুন, সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ছেলে শান্তুনু ইসলাম সুমিত, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামের একান্ত সহকারি (পিএস) ফারুকুল ইসলাম সেলিম, তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদল নেতা হাফিজ আল মাহমুদ প্রমুখ।

এছাড়া মজিবুর রহমান নামে এক আসামির একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। অন্যদিকে, এ মামলায় গ্রেপ্তার মহিলা দলের নেত্রী লুৎফুর নাহার লাভলী এবং জুনু বেগমের রিমান্ডের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


মন্তব্য