kalerkantho


বুয়েটের তিন ছাত্রীর অভিযোগ নিষ্পত্তির সময় নিলেন শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০২:৩২



বুয়েটের তিন ছাত্রীর অভিযোগ নিষ্পত্তির সময় নিলেন শিক্ষকরা

বুয়েটের তিন ছাত্রীর দায়ের করা রিট আবেদন শুনানি ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মূলতবি করা হয়েছে। বিচারাধীন বিষয়টি আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি করতে ৩ শিক্ষক হাইকোর্ট থেকে সময় নিয়েছেন। বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার সময় আবেদনের শুনানির জন্য দিন ধার্য করে আদেশ দেন। তিন ছাত্রীর করা পৃথক তিনটি রিট আবেদনের শুনানি চলছে এ আদালতে।

২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বুয়েটের এক ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন তিন ছাত্রী। উত্ত্যক্তের এ অভিযোগ নিস্পত্তিতে বুয়েট কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তিন ছাত্রী এক পর্যায়ে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। কমিটি তদন্তশেষে সে বছর ৩ জুন প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনটি বিবেচনায় নিয়ে বুয়েট কতৃপক্ষ তিন ছাত্রীকে তিন টার্মের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিস্কার করে। তাদের আবাসিক হল থেকে বহিস্কার করা হয়।

বুয়েট কতৃপক্ষের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জ করে ছাত্রীরা রিট আবেদন করেন আদালতে। চাপের মুখে তারা অভিযোগ প্রত্যাহার করেছিলেন বলে জানান। হাইকোর্ট ছাত্রীদের শাস্তি স্থগিত করে রুল জারি করেন। গত ১৮ জানুয়ারি ছিল রায় ঘোষনার দিন। আদালত বুয়েটের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখেন যে, ইভটিজিং-এর অভিযোগের সত্যতা ছিল। তখন আদালত সংশ্লিষ্ট তিন শিক্ষককে ২৪ জানুয়ারি তলব করেন। এরপর প্রতিটি শুনানির দিনে তিন শিক্ষক আদালতে হাজির থাকছেন। তারা হলেন- ড. মো কামরুল আহসান, ড. মো মাকসুদ হেলালী ও ড. রওশন মমতাজ।

আদালত শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোন বিবেচনায় আপনারা অভিযোগকারী তিন ছাত্রীকে দোষারোপ করলেন? তারা অভিযোগকারী হয়ে উল্টো আসামি হয়ে গেলেন। তাদেরতো ভবিষ্যত আছে। তদন্ত কমিটিতে একজন নারী সদস্য থাকলেও তাকে তো নারীবান্ধব বলে মনে হয় না। তদন্তকারীরা ইউনিয়নের মতো সাক্ষী বিশ্লেষন করেছেন, এটা কি বিভাগীয় অনুসন্ধান হলো?

এদিকে তিন শিক্ষকের পক্ষে বিষয়টি আদালতের বাইরে নিস্পত্তির জন্য মৌখিক সময় প্রার্থনা করা হয়। এ বিষয়ে আদালত ১৪ ফেব্রুয়ারি শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করে আদেশ দেন। তিন শিক্ষকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট এএফ হাসান আরিফ। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিষ্টার এবিএম আলতাফ হোসেন।


মন্তব্য