kalerkantho


নিরাপত্তার অজুহাতে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা হয়রানীর শিকার

আদালত প্রতিবেদক    

৩১ জানুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৪০



নিরাপত্তার অজুহাতে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা হয়রানীর শিকার

পেশাগত প্রয়োজনে প্রতিদিন আইনজীবীরা আদালতে যায়। সাধারণত যাদের গাড়ি আছে তারা গাড়ি নিয়েই প্রবেশ করেন। যাদের গাড়ি নেই তারা বিভিন্ন বাহন যেমন সিএনজি, রিকশা যোগে যাতায়াত করে থাকে। এ ছাড়া বিচারপ্রার্থীদেরও একই অবস্থা।

নিরাপত্তার স্বার্থে অবশ্যই সতর্ক অবস্থানে থাকবে প্রশাসন। তবে তা যদি দেশেল জনগণের দুর্ভোগের কারণ হয়ে না হয় সেদিকেও তো দৃষ্টি দিতে হবে। এমনই মন্তব্য করলেন বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের অনেক আইনজীবী।

এর ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাইকোর্টে প্রবেশে অতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপ করেছে পুলিশ। ফলে মারাত্মক হয়রানীর শিকার হচ্ছেন সুপ্রিম কোট, জজকোর্টের জুনিয়র আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা।

বুধবার সকাল আটটা থেকেই এই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। গাড়িতে কিংবা পায়ে হেঁটে হাইকোর্টের মাজার গেট ও বার কাউন্সিল সংলগ্ন গেট দিয়ে ঢোকার সময় পুলিশ প্রত্যেককে তল্লাশি করছে। পাশাপাশি প্রবেশকারীদের সঙ্গে থাকা ব্যাগও তল্লাশি করছে পুলিশ। অনেককে ফিরে যেতেও দেখা গেছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম বলেন, সকালে গেইট থেকে আমার কয়েকজন মক্কেল চেম্বারে আসেত চাইলে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে আমি পরিচয় দিয়ে তাদের চেম্বারে নিয়ে আসি। এটা এক বিড়ম্বনা। প্রায় আধা কিলোমিটার পথ হেটে যেয়ে মক্কেলকে নিয়ে আসতে হয়েছে। এটি অপমানজনকও বটে।  

সুপ্রিম কোর্টের এক কনিষ্ঠ আইনজীবী ইশরাত জাহান জানান, সকালে হাইকোর্চের মাজার গেট দিয়ে ঢোকার সময় পুলিশ আটকে দেয়। এ বছর হাইকোর্টে আইনজীবী হিসাবে তালিকাভুক্ত হওয়ার কারণে এখনও পরিচয়পত্র না থাকায় ভেতরে যেতে দেয়নি। আমার সিনিয়রকে (জ্যেষ্ঠ আইনজীবী) ফোন করার পর তিনি লোক পাঠালে আমাকে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেয় পুলিশ।

কয়েকজন বিচারপ্রার্থীও একই কথা বলেছেন। মামলার শুনানি উপলক্ষে খুলনা থেকে আসা রাসেল নামে এক বিচারপ্রাথী হাইকোর্টে ঢুকতে গেলে তাকে যেতে দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, পুলিশকে এ বিষয়ে কিছু বলতে গেলে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করে। এমনকি বিএনপির কর্মী বলে পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে আসামি ছিনতাই এর মামলায় কারাগারে পাঠানোর হুমকি দেয়। অগত্যা সে ওই এলাকা ত্যাগ করে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার মো. আশরাফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সকাল থেকে এখানকার নিরাপত্তায় আমরা দায়িত্ব পালন করছি। মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা কাজ করছি। হাইকোটের্রও কড়া নিরাপত্তার প্রয়োজন আছে। আমরা সেক্ষেত্রেও সচেষ্ট আছি।

প্রসঙ্গত,  জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট সংক্রান্ত দুর্নীতির দুই মামলায় পুরান ঢাকার বকশীবাজারের কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠের নির্মিত অস্থায়ী এজলাসে হাজিরা দিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেখান থেকে হাজিরা দিয়ে ফেরার সময় সচিবালয় ও হাইকোর্ট এলাকায় বিএনপি কর্মীরা যোগ দিতে আসায় এসব এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবারও খালেদা জিয়ার গাড়িবহর ফেরার সময় বিএনপিকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকজন বিএনপি কর্মীকে আটক করে পুলিশ। তবে এদের কয়েকজনকে পুলিশ ভ্যান থেকে নিয়ে যায় দলের অন্য নেতা-কর্মীরা। এর পরই হাইকোর্ট এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে পুলিশ।



মন্তব্য