kalerkantho


২১ আগস্ট মামলায় আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ অব্যাহত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩১ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৭:৫১



২১ আগস্ট মামলায় আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ অব্যাহত

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ বর্বরোচিত ও নৃশংস গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হতাহতের ঘটনায় আনা মামলায় আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অব্যাহত রয়েছে।

রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। আজ বুধবার যুক্তিতর্ক পেশ করার ৩৯তম দিনে আসামি মাওলানা মো সাঈদ ওরফে ডাক্তার জাফরের পক্ষে তৃতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক পেশ করেন তার আইনজীবী মোহাম্মদ আলী। এ যুক্তিতর্ক পেশ অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম মুলতবি করা হয়েছে। আগামী ৫, ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

এর আগে এ মামলায় পলাতক আসামি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাওলানা লিটন ওরফে জুবায়ের, মুফতি সফিকুর রহমান, মো. ইকবাল, মাওলানা তাজউদ্দিন, জাহাঙ্গির আলম বদর, রাতুল আহমদ বাবু, মহিবুল মোত্তাকিন, হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফ, মো. খলিল, বিএনপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, আনিসুল মোরসালিন ও মুফতি আবদুল হাইয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। এ মামলায় আটক আসামি মুন্সি মুহিবুল্লাহ ওরফে অভি, আবদুল হান্নান ওরফে মাওলানা সাব্বির, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়ার পক্ষে তাদের নিযুক্ত আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করেন।

গত ১ জানুয়ারি মামলার সব আসামিদের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাজা দাবি করে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করে। মামলার সকল আসামির বিরুদ্ধে আনিত অপরাধ স্বতন্ত্র, নিঃস্বার্থ, দালিলিক ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষীদের দ্বারা দেওয়া সাক্ষ্যে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করে রাষ্ট্রপক্ষ।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গত ২৩ অক্টোবর থেকে যুক্তিতর্ক শুরু হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রধান কোঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান, বিশেষ পিপি মো. আবু আব্দুলাহ ভূঞা, আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল, অ্যাডভোকেট ফারহানা রেজা, অ্যাডভোকেট মো. আমিনুর রহমান, অ্যাডভোকেট আবুল হাসনাত, আশরাফ হোসেন তিতাস প্রমুখ। অপরদিকে আসামিপক্ষে আবদুস সোবহান তরফদারসহ বিভিন্ন আইনজীবী আদালতে এদিন উপস্থিত ছিলেন।

২১ আগস্টের ওই নৃশংস হামলায় পৃথক দুটি মামলায় মোট আসামি ৫২ জন। মামলার আসামি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২৩ জন কারাগারে রয়েছে। এ মামলায় পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদাবক্স চৌধুরী, লে.কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক এবং মামলার সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তা- সিআইডি’র সাবেক এসপি রুহুল আমিন, সিআইডি’র সাবেক এএসপি আতিকুর রহমান ও আবদুর রশিদসহ মোট আটজন জামিনে রয়েছেন। তারেক রহমান, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মেজর জেনারেল (এলপিআর) এটি এম আমিন, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দারসহ ১৮ জন এখনো পলাতক।

৫২ আসামির মধ্যে তিনজন আসামি জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুফতি হান্নান ও শরীফ সাইদুল আলম বিপুলের অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৃশংস হামলায় ২২ জন নিহত ও নেতাকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পত্মী আইভি রহমান। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যান। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।


মন্তব্য