kalerkantho


জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলা

'হাওয়ার উপর মামলা করা হয়েছে, কোন দুর্নীতি হয়নি'

আদালত প্রতিবেদক   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ২১:৪১



'হাওয়ার উপর মামলা করা হয়েছে, কোন দুর্নীতি হয়নি'

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে কোনো দুর্নীতি হয়নি। হাওয়ার উপর এই মামলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এই মামলার অন্য আসামি পক্ষের আইনজীবী। আজ বুধবার বকশিবাজার কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে বিশেষ এজলাসে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতে মামলার আরেক আসামি শরফুদ্দিন খানের পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানিতে তার আইনজীবী আহসান উল্লাহ এ বক্তব্য উপস্থাপন করেন। 

যুক্তিতর্ক শুনানিতে তিনি বলেন, ‘হাওয়ার মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি চলছে। জিয়া অরফানেজের নামে দুই কোটি টাকা আসে। এখন তা বেড়ে তিনগুন হয়েছে। জিয়ার নামে ট্রাস্ট খুলতে চাইলে কয়েক কোটি টাকা চলে আসবে।’

তিনি আরও বলেন, এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই বলেছেন প্রতিষ্ঠানটি ট্রাস্ট আইন অনুযায়ী হয়েছে। ডিড হয়েছে এবং ট্রাস্টের নামে যে জমি কেনা হয়েছে, তাও প্রতিষ্ঠিত। এখান থেকে একটি টাকাও আত্মসাৎ করা হয়নি; বরং দুই কোটি টাকা এখন ব্যাংকে বৃদ্ধি পেয়ে ছয় কোটি টাকা হয়েছে। 

এ নিয়ে কোনো মামলা হতে পারে না উল্লেখ করে মামলার আরেক আসামির আইনজীবী বলেন, আমি আশা করি, এই মামলার সব আসামি খালাস পাবেন। 

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে অন্য আসামিদের যুক্তিতর্ক শুনানি হয়। এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় আদালতে উপস্থিত হয়ে দুই মামলায় হাজিরা দেন খালেদা জিয়া। বেলা ৩টার দিকে তিনি আদালত ত্যাগ করেন।

এর আগে সকালে বিশেষ আদালতে পৌঁছানোর পরপরই বিচারক ড. আখতারুজ্জামান মামলার শুনানি গ্রহণ করতে এজলাসে উপস্থিত হন। মধ্যাহ্ন ভোজের এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বেলা ৩টা পর্যন্ত শুনানি শেষে আজ সকাল পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবি করেন।

এদিন মামলার আসামি মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের উপস্থিতিতে তাদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন তাদের ওই আইনজীবী। তার যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়নি। আজও তিনি যুক্তি উপস্থাপন করবেন।

এদিন মামলার শুনানি শুরুর প্রথমে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা মামলাটির কার্যক্রম আজ পর্যন্ত মুলতবি রাখার আবেদন জানান অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া। শুনানিতে তিনি বলেন, আজ বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী বিধায় পূর্ব নির্ধারিত জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির দুই মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি স্থগিত রাখা হোক। 

কোনো আপত্তি আছে কিনা এ বিষয়ে বিচারক রাষ্ট্রপক্ষের কাছে জানতে চান। এ সময় অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘এটা ধর্মীয় ব্যাপার। খালেদা জিয়ার পক্ষে সময়ের আবেদন মঞ্জুর করলে আমার কোনো আপত্তি নেই।’

এরপর বিচারক বলেন, ‘আজকে পর্যন্ত ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) জামিনে থাকবেন। আর অন্য আসামিদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন চলবে।’

তবে মামলার শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী সাংবাদিকদের জানান, ‘আমরা আগামীকালের যুক্তি উপস্থাপন মুলতবি রাখার জন্য আবেদন করেছি। আদালত নামঞ্জুর করে আগামীকাল  বৃস্পতিবার শুধু খালেদাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। তবে ম্যাডাম আজ আদালতে উপস্থিত হবেন।’

গত বছরের ২০ ডিসেম্বর থেকে এ নিয়ে ১১তম দিবসে মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি হয়েছে। গত মঙ্গলবার খালেদার পক্ষে মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। খালেদার প্যানেলের পাঁচজন জেষ্ঠ্য আইনজীবী শুনানি করেন। 

গত ১৯ ডিসেম্বর এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিশেষ পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল। তিনি খালেদা জিয়া ও তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমানসহ সকল আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি হিসাবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রত্যাশা করেন। 

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরপরে খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনকে আসামি করে ২০১০ সালের ৫ আগস্ট চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। 

মামলায় চার্জশিটভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।



মন্তব্য