kalerkantho


শাম্মী হত্যা মামলা

পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০৬:৪১



পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

রাজধানীর মিরপুরে আলোচিত গৃহবধু শামিমা লাইলা আরজুমান্না খান শাম্মী হত্যা মামলা পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মিরপুর মডেল থানার এসআই নওশের আলীর পরিবর্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দিয়ে তদন্ত করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পরীক্ষা করে আদালতের কাছে মতামত দেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়ে তিন সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষকে এ কমিটি করতে বলা হয়েছে।   

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ আদেশ দেন। গৃহবধূ শাম্মী হত্যা মামলায় তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এবং সংশ্লিস্টদের বক্তব্য শোনার পর গতকাল এ আদেশ দিলেন আদালত।

এরআগে গত ৭ নভেম্বর তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন আদালত। এর ধারাবাহিকতায় গত ২১ নভেম্বর এসআই নওশের আলী আদালতে হাজির হলে আদালত ময়না তদন্তকারী কর্মকর্তা ডা. সোহেল মাহমুদকে তলব করেন। সোহেল মাহমুদ গত ৩ ডিসেম্বর আদালতে হাজির হন। আদালত পুলিশ ও চিকিৎসকের বক্তব্য শোনেন। এরপর গতকাল এক আদেশে মামলাটি পিবিআই দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিলেন।

শাম্মী হত্যায় তদন্তে গাফিলতি নিয়ে গত ৫ নভেম্বর ‘গৃহবধূ শাম্মী হত্যা মামলা, মাকে বাবা অনেক কষ্ট দিয়ে মেরেছে, তদন্ত কর্মকর্তার গড়িমসির অভিযোগ’-শিরোনামে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন পরদিন ৬ নভেম্বর আদালতের নজরে আনেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ।  

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গত ৭ জুন রাতে রাজধানীর কল্যাণপুরে ভাড়া বাসায় একটি বায়িং হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন টিটু তার স্ত্রী শামিমা লাইলা আরজুমান্না খান শাম্মীকে অমানবিক নির্যাতন করে হত্যা করে। পরে চিকিত্সার নামে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর ছোট ভাই মো. ফরহাদ হোসেন খান বাবু বাদী হয়ে ৮ জুন মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ ঘাতক স্বামী আলমগীর ও তার তৃতীয় স্ত্রী ইসরাত জাহান মুক্তাকে গ্রেপ্তার করে। ’

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘অভিযোগ উঠেছে, আলোচিত এ মামলার তদন্ত নিয়ে গড়িমসি করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার এসআই মো. নওশের আলী। মামলার বাদী মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ঢাকায় অবস্থানরত আসামির ধনাঢ্য ভগ্নিপতি মো. আবদুল বাছেদ অর্থের মাধ্যমে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পরিবর্তন এবং মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহে কাজ করছেন। আর তাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নওশের আলী প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে ঘাতক আসামির পক্ষে ভূমিকা রাখছেন। ’


মন্তব্য