kalerkantho


ভুল তথ্য প্রদান: যৌতুকের মামলা থেকে আরাফাত সানির অব্যাহতি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ নভেম্বর, ২০১৭ ১৮:৪৯



ভুল তথ্য প্রদান: যৌতুকের মামলা থেকে আরাফাত সানির অব্যাহতি

ফাইল ছবি

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ক্রিকেটার আরাফাত সানির বিরুদ্ধে তার কথিত স্ত্রী নাসরিন সুলতানার দায়ের করা মামলায় আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। যে কারণে ভুল তথ্য প্রদান করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলায় ক্রিকেটার আরাফাত সানি এবং তার মা নার্গিস আক্তারকে অব্যাহতি দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার ৪নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তাবাসুম ইসলাম এই আদেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মো. ইয়াহিয়া অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে সানি ও তার মাকে অব্যাহতির আবেদন করে গত ১৭ আগস্ট মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, আরাফাত সানির সঙ্গে মামলার বাদীর যে বিবাহ ও কাবিন হয়েছে তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। সানি ও নাসরিন একটি হোটেলে যাতায়াত করতেন। যে রেস্টুরেন্টে তাদের বিয়ে হয়েছে তার কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি। সানির মা নার্গিস সুলতানা লোকজনকে নিয়ে মামলার বাদীকে মারধরের কথা বলেছেন তারও কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নাসরিন সুলতানার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ক্রিকেটার সানিকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।  গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ৪ নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যৌতুকের জন্য মারধরের অভিযোগে ক্রিকেটার আরাফাত সানি ও মা নার্গিস আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করেন সানির স্ত্রী দাবিদার নাসরিন সুলতানা। এর আগে ভিন্ন ধারায় আরও দুটি মামলা করেন নার্গিস।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিল, ২০১৪ সালের ১২ ডিসেম্বরে ক্রিকেটার আরাফাত সানির সঙ্গে ৫ লাখ এক টাকা দেনমোহরে নাসরিনের বিয়ে হয়। বিয়ের ৬ মাস পর সানি নাসরিনের কাছে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। যৌতুকের টাকার জন্য সানি তার স্ত্রীকে মারধর করেন এবং গালিগালাজ করে ভাড়া বাসায় রেখে যান।

পরবর্তীতে নাসরিন সানির সঙ্গে দেখা করলে সানি তাকে বলেন, 'যৌতুকের টাকা না দিলে আমার মা তোমার সঙ্গে সংসার করতে দেবেন না এবং এ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোমার পরিণতি খারাপ হবে। কারণ, তোমার কিছু অশ্লীল ছবি আমার মোবাইলে রয়েছে। ' এরপর তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে সানির মা বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং হুমকি দিয়ে বলেন, 'তোর সঙ্গে আমার ছেলে সংসার করবে না, তাই সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যবস্থা কর। '

তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ইয়াহিয়া তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেন, মামলার বাদী ভুল তথ্য প্রদান করে মামলাটি দায়ের করেছেন। তাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ (সংশোধিত ২০১৩) এর ১১(গ) ৩০ ধারা মতে, আসামিদের অব্যাহতির আবেদন করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হলো।


মন্তব্য