kalerkantho


এত আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল যে কারণে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ নভেম্বর, ২০১৭ ০২:৩১



এত আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল যে কারণে

বহুল আলোচিত পিলখানা হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায়ে ১৩৯ জনকে ফাঁসি, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ (বৃহত্তর) বেঞ্চ গত সোমবার এ রায় দেন।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তখনকার বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) সদর দপ্তর পিলখানায় বিদ্রোহের একপর্যায়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিম্ন আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন কারাগারে মারা গেছেন।

বেঞ্চের কনিষ্ঠ সদস্য বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার তার পর্যবেক্ষণে এত বেশি সংখ্যক আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশই সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড সমর্থন করে না। উন্নত দেশসহ বিশ্বের ১৪০টি দেশ তাদের বিচারিক ব্যবস্থা থেকে মৃত্যুদণ্ড বাদ দিয়েছে।  

তাদের যুক্তি হলো, এ জাতীয় শাস্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনে কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়ে না। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখে না। তবে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এটা সত্য যে, সর্বোচ্চ শাস্তি অপরাধীর অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।  

পরিসংখ্যান বলছে, যেসব দেশ মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে, সেসব দেশে অপরাধ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ শাস্তিই হচ্ছে প্রয়োজনীয় অংশ। যদিও কিছু মানবাধিকার কর্মী মনে করেন যে মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে মানবাধিকার লংঘন করা হয়।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশে হত্যা, গুপ্তচরবৃত্তি, বিশ্বাসঘাতকতা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

আদালত আরো বলেন, দেশ ও দেশের বাইরে ভয়ানক ও উদ্বেগজনক যেসব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে তাতে যথাযথ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই শাস্তি জনগণকে বার্তা দেয় যে হত্যার মতো অপরাধ করলে তাকে মৃত্যুদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আর এটা খুবই স্বাভাবিক যে, একজন হত্যাকারীকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিলে ন্যায়বিচার হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। এ অবস্থায় আমাদের অভিমত হলো যে, হত্যাকারীদের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়াই হবে দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা এবং ধর্ষণ ও হত্যার মতো অপরাধ প্রতিরোধ করা।


মন্তব্য