kalerkantho


পরকিয়া নিয়ে স্ত্রী হত্যায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড

আদালত প্রতিবেদক    

২৮ নভেম্বর, ২০১৭ ২১:৩৬



পরকিয়া নিয়ে স্ত্রী হত্যায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড

শ্বাসরোধ করে হত্যার পর স্ত্রীর লাশ তিন টুকরা করে ইটভাটার নিচে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে নিহতের স্বামী ও পরকীয়া প্রেমিকাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

২০১২ সালের ৭ জানুয়ারি রাজধানীর সাভারে মানবিক সাহায্য সংস্থার শাখায় কর্মরত হিসাবরক্ষক শামীমা আক্তার হ্যাপিকে হত্যা করেন তার স্বামী মুকুল হোসেন ও তার প্রেমিকা লাভলী আক্তার নীলুফা।

মুকুল হোসেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার ময়েনদিয়া শেখপাড়া গ্রামের আবদুল ওয়াজেদ মোল্লার ছেলে।

ওই ঘটনায় এসআই গোলাম সারোয়ার ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মুকুল গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী লাশের দুই টুকরো উদ্ধার করা হয়।

আজ মঙ্গলবার এ মামলার রায়ে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এস এম কুদ্দুস জামান। হাইকোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষে দণ্ড দ্রুত কার্যকর করার আদেশ দে‌ওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত স্বামী মকুলকে এজলাসে হাজির করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে করাগারে রয়েছেন তিনি। এ ছাড়া প্রথম থেকেই পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আরেক আসামি নীলুফা গ্রেপ্তার হওয়ার পর দণ্ড কার্যকর হবে বলে আদেশে উল্লেখ করেন বিচারক।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, রায় ঘোষণার পর মুকুলকে মৃত্যু পরোয়ানা দিয়ে করাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

পলাতক আসামিকে দেখামাত্রই গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়ে মৃত্যু পরোয়ানা  জারি করা হয়।  

মামলার বিচার চলাকালে চার্জশিটভুক্ত ২৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২০১৪ সালের ৪ মে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার অপরাধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরু হয়। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রজব আলী ২০১২ সালের ৩১ আগস্ট দুইজনকে আসামি করে চর্জশিট  দাখিল করেন।

চার্জশিটে বলা হয়, ২০১১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পারিবাবিকভাবে মুকুল হোসেনের সঙ্গে শামীমা আক্তারের বিয়ে হয়। মুকুল হোসেন সাভারের গেণ্ডায় ভাড়া থাকতেন। ওই বাসায় তার একটি প্যাকেজিং ফ্যাক্টরি ছিল। শামীমা রাজধানীর ডেমরায় বেসরকারি মানবিক সাহায্য সংস্থায় হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বিয়ের পর সংস্থার সাভার শাখায় যোগদান করেন। স্বামীর ভাড়াবাসায় নতুন সংসার শুরু করেন। চার মাসের মাথায় পরের বছর ৭ জানুয়ারি শামীমা নিখোঁজ হন। মুকুল সাভার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। দৈনিক পত্রিকায় এ সংক্রান্ত  বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়।

এদিকে, বোনজামাইয়ের গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় নিহতের ভাই সাইফুল ইসলাম বিয়য়টি পুলিশকে জানান। মুকুলকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার কারখানায় কর্মরত দুই সন্তানের মা লাভলী আক্তার নীলুফারের সঙ্গে পরকিয়া সম্পর্ক  রয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার আগে গত ৭ জানুয়ারি শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। লাশ তিন টুকরা করে কাটা মাথা ১২ কিলোমিটার দূরে কেরানীগঞ্জের আলিপাড়ার ইটভাটার কাছে সেতুর কাছে ফেলা  হয়।

ওই তথ্য অনুযায়ী ওইদিনই কাটা মাথা উদ্ধার করা হলে পরেরদিন এসআই গোলাম সারোয়ার বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মুকুলকে মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে হত্যার ঘটনা বর্ণনা করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।  


মন্তব্য