kalerkantho


মাহমুদুল হাসান হত্যা মামলা

শেরপুরে দুই সহোদরসহ পাঁচজনের যাবজ্জীবন

শেরপুর প্রতিনিধি    

২৮ নভেম্বর, ২০১৭ ২১:০৫



শেরপুরে দুই সহোদরসহ পাঁচজনের যাবজ্জীবন

শেরপুরে চরাঞ্চলের চাঞ্চল্যকর মাহমুদুল হাসান হত্যা মামলায় দুই  সহোদরসহ পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। আজ  মঙ্গলবার বিকেলে জনাকীর্ণ আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে জেলা ও দায়রা জজ মো. আওলাদ হোসেন ভূঁইয়া এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সদর উপজেলার চরমোচারিয়া ইউনিয়নের চরবাবনা গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে আব্দুল মুন্নাফ ও আব্দুল মোতালেব, সুরুজ্জামানের ছেলে হাফিজুর রহমান, মৃত আব্দুল জব্বরের ছেলে সৈয়দ জামান ও মকছেদ আলীর ছেলে শরীফুল ইসলাম।

আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজনকেই ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড  দেওয়া হয়েছে। মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে তিনি জানান, সদর উপজেলার চরবাবনা নামাপাড়া গ্রামের মৌলভী আজিজুর রহমানের ছেলে মাহমুদুল হাসান পানি সেচের শ্যালো মেশিন পরিচালনা করতেন। ২০০৪ সালের ১৫ এপ্রিল সকালে জমিতে সেচের পানি নিতে গিয়ে তার সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত হন স্থানীয় আব্দুল হাকিমের ছেলে আব্দুল মুন্নাফ। একপর্যায়ে আব্দুল মুন্নাফের ডাকে নিজেদের আরো কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহমুদুল হাসানকে বেধড়ক মারপিট শুরু করলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মাহমুদুল হাসান।

ওই ঘটনায় মাহমুদুল হাসানের বড় ভাই মৌলভী আরিফ রব্বানী বাদী হয়ে আব্দুল মুন্নাফসহ সাতজনের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে শেরপুরের তৎকালীন পুলিশ সুপার (বর্তমানে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি) নিবাস চন্দ্র মাঝির তত্ত্বাবধানে তদন্তের দুই মাসের মধ্যে একই বছরের ১৭ জুন ওই সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন সদর থানার এসআই সজীব দত্ত।

মামলার দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া চলাকালে সুরুজ্জামান ও মকছেদ আলী নামের দুই আসামি মারা যান। বিচারিক পর্যায়ে বাদী, চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন।

  


মন্তব্য