kalerkantho


বনানীতে দুই ছাত্রী ধর্ষণ: বাদীকে পরবর্তী জেরা ৩ জানুয়ারি

আদালত প্রতিবেদক   

২৭ নভেম্বর, ২০১৭ ০২:০৭



বনানীতে দুই ছাত্রী ধর্ষণ: বাদীকে পরবর্তী জেরা ৩ জানুয়ারি

রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ ও তার দুই বন্ধুসহ পাঁচজনের পক্ষে বাদীকে জেরা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল রবিবার বাদীকে পঞ্চম দিনের মতো জেরা করা হয়।

গতকাল ধর্ষিত দুই শিক্ষার্থী সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ঢাকার ২ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির হন। ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে জেরা সম্পন্ন হয়। সাক্ষ্যগ্রহণের সময় রাষ্ট্রপক্ষে ট্রাইবু্যনালের বিশেষ পিপি আলী আকবর, বাদী, বাদীপক্ষে মহিলা সমিতির আইনজীবী ফাহমিদা আক্তার রিংকি ও আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাজী নজীব উল্যাহ হিরু এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। অন্য কাউকে সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বাদীকে জেরা করেন আসামিদের আইনজীবী। জেরা শেষ না হওয়ায় বিচারক শফিউল আযম অবশিষ্ট জেরা ও পরবর্তী সাক্ষ্যের জন্য আগামী ৩ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।

সাক্ষ্যগ্রহণের আগে মামলার আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ, তার বন্ধু ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ই-মেকার্সের কর্মকর্তা নাঈম আশরাফ ওরফে আবদুল হালিম, ঢাকার পিকাসো রেস্তোরাঁর মালিক রেগনাম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে সাদমান সাফিক, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন এবং দেহরক্ষী রহমত আলীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

গত ১৭ অক্টোবর ধর্ষণের শিকার এক শিক্ষার্থী বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। এর পর থেকে বাদীকে আসামিপক্ষের জেরা চলছে।

এ মামলায় গত ১৩ জুলাই চার্জ গঠন করে ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করা হয়।

গত ১৯ জুন সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে আবদুল হালিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও সাফাতের বন্ধু সাদমান সাফিক, গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলীর বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে গত ৮ জুন আদালতে পাঁচ আসামিকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের পুলিশ পরিদর্শক ইসমত আরা এমি।

ধর্ষণের ঘটনার ৪০ দিন পর গত ৬ মে বনানী থানায় পাঁচজনকে আসামি করে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেন ধর্ষণের শিকার হওয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দুজনের একজন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সাফাতের জন্মদিনের পার্টিতে অংশ নিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন তাঁরা। বনানীর দ্য রেইনট্রি হোটেলের দুটি কক্ষে আটকে রেখে তাঁদের ধর্ষণ করা হয়।

গত ২৮ মার্চ রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত আসামিরা মামলার বাদী এবং তাঁর বান্ধবী ও বন্ধু শাহরিয়ারকে আটকে রাখে। অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও গালাগাল করে। বাদী ও তাঁর বান্ধবীকে পৃথক কক্ষে নিয়ে যায় আসামিরা। বাদীকে সাফাত আহমেদ একাধিকবার ও তাঁর বান্ধবীকে নাঈম আশরাফ একাধিকবার ধর্ষণ করে।


মন্তব্য